বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

হিমবাহের গলন ঠেকাবে ভেড়ার পশম?

প্রতিনিধির নাম : / ২৩ Time View
প্রকাশকাল : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুপারস্টারনিউজ তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : জলবায়ু পরিবর্তনের কড়াল গ্রাসে যখন বিশ্বের অন্যতম সুন্দর আল্পস পর্বতমালার হিমবাহ একে একে হারিয়ে যাচ্ছে, তখন সুইজারল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা নিয়ে এসেছেন এক চমকপ্রদ সমাধান; ভেড়ার পশম।

বছরের পর বছর ধরে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলোতে বরফ গলন রোধ করতে কৃত্রিম প্লাস্টিকের ত্রিপল ব্যবহার করা হতো, যা রোদ প্রতিফলিত করে তাপ শোষণ কমাতো। কিন্তু এই প্লাস্টিকের ত্রিপলগুলো পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর মাইক্রোফাইবার ছড়ায়। এই সমস্যার একটি অভিনব এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প খুঁজতে ‘সামিট ফাউন্ডেশন’ এবং লোজান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা হাতে নিয়েছেন ‘কিপ ইট উল’ নামের একটি ব্যতিক্রমী প্রকল্প।

পশ্চিম সুইজারল্যান্ডের সানফ্লুরন গ্লেসিয়ারের বুকে এবার ভেড়ার পশম দিয়ে চালানো হয়েছে এই যুগান্তকারী পরীক্ষা। গ্রীষ্মকালের রেকর্ডভাঙা গরমে গ্লেসিয়ারের বরফ নির্ধারিত সময়ের বহু আগেই গলে পানি হয়ে যাওয়ায় তুষারধস এবং মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপদের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

এই প্রকল্পের ব্যবস্থাপক তিমোথি স্টেইনার জানিয়েছেন, গবেষকরা চেয়েছেন এমন একটি বিকল্প খুঁজতে যা কেবল বায়োডিগ্রেডেবল বা পচনশীলই নয়, বরং সুইজারল্যান্ডের অব্যবহৃত পশমকেও কাজে লাগাতে পারে।

সুইজারল্যান্ডে উৎপাদিত পশমের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশই প্রতি বছর কোনো কাজে না লাগিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বা পুড়িয়ে ফেলা হয়। চারজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মাথা থেকে আসা এই দুর্দান্ত আইডিয়াটি বাস্তবে রূপ দিতে মাঠে নামে পুরো গবেষক দল।

চলতি বছরের জুনে ফিসোলান নামের একটি সুইস কোম্পানির তৈরি দুটি প্রোটোটাইপ পশমের কম্বল সানফ্লুরন গ্লেসিয়ারের প্রায় ২০০ বর্গমিটার এলাক জুড়ে বিছিয়ে দেওয়া হয়। গ্রীষ্মকালজুড়ে গবেষকরা এই পশমের কম্বলের পারফরম্যান্সের সাথে প্রচলিত কৃত্রিম জিওটেক্সটাইল আবরণের তুলনা করেন। আর তাতেই মিলেছে দারুণ সাফল্য। প্রতি দুই সপ্তাহ পর পর নেওয়া পরিমাপে দেখা গেছে, পশমের আবরণগুলো কৃত্রিম উপায়ের মতোই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বরফ গলন রোধ করতে সক্ষম হয়েছে। ফিসোলানের নিকলাউস সায়েগার পশমের এই স্থায়িত্ব দেখে নিজেই অবাক হয়েছেন, কারণ তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন উপাদানটি বরফের ওপর টিকিয়ে রাখার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী হবে না। ছাত্র এলিয়ট গাফিয়ত জানিয়েছেন, তাদের এই অভাবনীয় সাফল্য এখন মানুষের চোখের সামনে দৃশ্যমান এবং এটি অবিশ্বাস্য রকমের ভালো কাজ করেছে।

তবে এই প্রকল্পের নেপথ্যের কারিগররা স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ভেড়ার পশমের কম্বল কোনোভাবেই বিশ্ব উষ্ণায়ন বা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মূল সমাধান নয়। সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলোর মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য দুই শতাংশ এলাকায় এই সুরক্ষামূলক চাদর বিছানো সম্ভব। তাই বিজ্ঞানীরা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা কমানোই বরফ গলে যাওয়ার প্রক্রিয়া ধীর করার একমাত্র দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পথ।

সূত্র: রয়টার্স
সুপারস্টারনিউজ/এআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category