বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন

ঘুমানোর আগে ফোনে স্ক্রল, ‘ব্রেন ফগ’ নিয়ে সতর্ক করলেন নিউরোলজিস্ট

প্রতিনিধির নাম : / ২৩ Time View
প্রকাশকাল : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুপারস্টারনিউজ তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : এই ডিজিটাল যুগে সবসময় আমাদের হাতে স্মার্টফোন। এমনকি ঘুমাতে যাওয়ার আগেও ডিভাইসে স্ক্রলিং করার অভ্যাস কম বেশি সবার। কিন্তু এই প্রতিদিনের অভ্যাস আমাদের মস্তিস্কে ক্ষতি করে সেটা আমরা অনেকে জেনেও যেন পাত্তা দেই না। আর এ নিয়েই সতর্ক করেছে নিউরোলজিস্ট। সেরা হাসপাতাল খুঁজুন

বিশেষজ্ঞদের মতে উদ্বেগ তৈরি করা খবর একের পর এক দেখার এই অভ্যাসকে বলা হয় ‘ডুমস্ক্রলিং’। তবে নিয়মিত রাতের এই অভ্যাস মানসিক ক্লান্তি, ঘুমের ব্যাঘাত এবং পরদিনের কাজে মনোযোগ কমিয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। হিন্দুস্তান টাইমসে ভারতের নিউরোলজিস্ট ও এপিলেপ্টোলজিস্ট ডা. শ্রীলক্ষ্মী এন জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ডুমস্ক্রলিং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।

যেভাবে ডুমস্ক্রলিংয়ে আমাদের ক্ষতি হয়: মস্তিষ্ক সারাক্ষণ বিভিন্ন তথ্য গ্রহণ ও প্রক্রিয়াজাত করে। কিন্তু ঘুমানোর আগ পর্যন্ত একটানা ফোন স্ক্রল করতে থাকলে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ পায় না। বিশেষ করে দ্রুত পরিবর্তনশীল ও উদ্বেগ তৈরি করা কনটেন্ট মস্তিষ্ককে দীর্ঘ সময় সতর্ক অবস্থায় রাখে। ডা. শ্রীলক্ষ্মীর মতে, রাতে ফোনের স্ক্রিনের আলো, বিশেষ করে নীল আলোর সংস্পর্শে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমে যেতে পারে। মেলাটোনিন ঘুমের সময় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে এবং ঘুমের মানও খারাপ হতে পারে।শিষ্টাচার ক্লাস নিন

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এর প্রভাব পড়তে পারে স্মৃতি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, মন-মেজাজ ও সামগ্রিক চিন্তাশক্তির ওপর। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেকের মাথা ভার লাগা, ভুলে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ বা কাজে মনোযোগ দিতে সমস্যা হওয়ার মতো বিষয় দেখা দিতে পারে। এই মানসিক ঝাপসা বা অস্পষ্ট অনুভূতিকেই সাধারণভাবে ‘ব্রেন ফগ’ বলা হয়।

রাতে নেতিবাচক খবর বা নানা ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ কনটেন্ট দেখতে দেখতে মস্তিষ্ক আরও সক্রিয় হয়ে পড়ে। এরপর স্ক্রিনের আলো ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে প্রভাব ফেলে। ঘুম কমে গেলে পরদিন ক্লান্তি ও বিরক্তি বাড়ে। আবার মানসিক অস্বস্তি থেকে রাতে ফোনে আরও বেশি সময় কাটানোর প্রবণতা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞের মতে, মাঝে মাঝে ফোনে স্ক্রল করা সাধারণত উদ্বেগের বিষয় নয়। তবে এটি যদি প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয় এবং ঘুম, মনোযোগ বা মানসিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।নিউরো পরামর্শ বুক

ডুমস্ক্রলিং কমাবেন যেভাবে: ডুমস্ক্রলিং বন্ধ করতে একেবারে ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. শ্রীলক্ষ্মী।

খবর দেখার নির্দিষ্ট সময় ঠিক রাখা: সারাদিন বারবার খবরের আপডেট দেখার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ে খবর পড়ার অভ্যাস করুন। এতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বারবার ফোন হাতে নেয়ার প্রবণতা কমবে।

ঘুমের আগে স্ক্রিন এড়িয়ে চলুন: ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন, ট্যাব বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস দূরে রাখার চেষ্টা করুন। এতে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ পাবে।

অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ: বারবার আসা নোটিফিকেশন অনেক সময় অজান্তেই ফোন হাতে নেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রয়োজন নেই এমন অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করে রাখা যেতে পারে।নিউরোসাইন্স বই বাছুন

ঘুম ও বিশ্রামকে গুরুত্ব দিন: মস্তিষ্কের সুস্থ কার্যকারিতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, বিশ্রাম এবং সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ।

ফোন ব্যবহারের কারণে যদি নিয়মিত ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত উদ্বেগ, মাথাব্যথা, স্মৃতিশক্তি বা মনোযোগের সমস্যা তৈরি হয় এবং তা দৈনন্দিন জীবন ও কাজকর্মে প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
সুপারস্টারনিউজ/এআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category