বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন

খাবারে পরিমিতিবোধ অত্যন্ত জরুরি

প্রতিনিধির নাম : / ২২ Time View
প্রকাশকাল : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুপারস্টারনিউজ ধর্ম ডেস্ক : খাদ্য মানুষের জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। ক্ষুধা নিবারণ, শরীর সুস্থ রাখা, ইবাদতের শক্তি অর্জন ও জীবনের প্রয়োজনীয় কর্ম সম্পাদনের জন্য মানুষকে খাদ্য গ্রহণ করতে হয়।

আর এই খাদ্য আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য এক বিরাট নিয়ামত। পৃথিবীর অসংখ্য খাদ্যসামগ্রী, ফলমূল, শস্য, মাংস, দুধ ও পানীয়—সবই মানুষের কল্যাণে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন।
কিন্তু নিয়ামত তখনই কল্যাণের কারণ হয়, যখন তার যথাযথ ব্যবহার করা হয়। তাই ইসলাম মানুষের খাদ্যাভ্যাসে সংযম, ভারসাম্য ও পরিমিতিবোধের শিক্ষা দিয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৩১)

এখানে ‘ইসরাফ’ বা সীমালঙ্ঘনের ব্যাপকতার কারণে শুধু খাবার নষ্ট করাই নয়, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভোগ-বিলাসও এ সতর্কতার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ফলে একজন মুসলিমের খাদ্যাভ্যাসে আনন্দ থাকবে, কিন্তু লাগামহীন ভোগ থাকবে না; খাবারের স্বাদ থাকবে, কিন্তু অপচয় থাকবে না।

ইসলাম পরিমিতিবোধের শিক্ষা দিয়েছে বলে এমন নয় যে মানুষ ভালো খাবার খেতে পারবে না। বরং আল্লাহ তাআলা বলেনম, ‘বলুন, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য ও পবিত্র রিজিক বের করেছেন, তা কে হারাম করেছে?’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৩২)

অর্থাৎ সুস্বাদু ও বৈধ খাবার গ্রহণ করা ইসলামে নিষিদ্ধ নয়। সমস্যা তখনই, যখন মানুষ খাবারের নিয়ামতকে ভোগের নেশায় পরিণত করে এবং প্রয়োজনের সীমা অতিক্রম করে। খাবারের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাদিস রয়েছে। মিকদাম ইবনে মাদিকারিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ তার পেটের চেয়ে নিকৃষ্ট কোনো পাত্র পূর্ণ করে না।’

এরপর তিনি বলেন, মানুষের জন্য কয়েকটি লোকমাই যথেষ্ট, যা তার মেরুদণ্ড সোজা রাখার জন্য প্রয়োজনীয়। আর যদি এর চেয়েও বেশি খেতে হয়, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখা উচিত।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৩৪৯)
কী চমৎকার শিক্ষা! রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের খাদ্য গ্রহণকে শুধু ক্ষুধা মেটানোর বিষয় হিসেবে দেখেননি; বরং শরীরের প্রয়োজন, কর্মক্ষমতা এবং আত্মসংযমের সঙ্গে এর সম্পর্ক স্থাপন করেছেন।

পেট ভরে খাওয়া আর প্রয়োজন মেটানো এক নয়

বর্তমান সমাজে অনেক সময় খাবার গ্রহণের উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায়—পেট যতক্ষণ না পুরোপুরি ভর্তি হচ্ছে, ততক্ষণ খাওয়া। কিন্তু নবীজি (সা.)-এর শিক্ষা আমাদের এ ধারণা থেকে বের করে আনে। একজন মুমিনের জন্য খাবারের মূল উদ্দেশ্য হলো—শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি দেওয়া, যাতে সে আল্লাহর ইবাদত ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে। কেননা অতিরিক্ত খাবার অনেক সময় মানুষকে অলস, ভারী ও কর্মবিমুখ করে তোলে। খাবারের পর শরীর যখন অতিরিক্ত ভারী হয়ে যায়, তখন ইবাদত, অধ্যয়ন, কর্ম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে মনোযোগ কমে যেতে পারে।

অন্যদিকে পরিমিত খাবার মানুষকে কর্মক্ষম রাখতে সহায়তা করে। সে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জ্ঞানচর্চা, পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব পালনে অধিক সক্রিয় থাকতে পারে। তাই খাদ্যে পরিমিতিবোধ ইবাদতমুখী ও দায়িত্বশীল জীবনযাপনের সহায়ক।

খাবারের অপচয় অত্যন্ত নিন্দনীয়

খাবার আল্লাহর নিয়ামত। তাই খাবার নষ্ট করা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। একজন মুসলিমের উচিত নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করা এবং প্লেটে এমন পরিমাণ খাবার না নেওয়া, যা শেষ পর্যন্ত ফেলে দিতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) খাবারের অবশিষ্ট অংশের প্রতিও যত্নশীল হতে শিক্ষা দিয়েছেন। সহিহ বুখারির হাদিসে এসেছে, খাবার গ্রহণের পর আঙুলে বা পাত্রে লেগে থাকা খাদ্যকণা নষ্ট না করার প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.) উৎসাহ দিয়েছেন।

খাবার গ্রহণও হতে পারে ইবাদত

একজন মুমিন যখন আল্লাহর দেওয়া রিজিক গ্রহণ করে এবং মনে রাখে—‘এ খাবার আমার নিজের সামর্থ্যে সৃষ্টি হয়নি; এটি আমার রবের দান’—তখন সাধারণ খাবার গ্রহণও তার জন্য সওয়াবের কারণ হতে পারে। সে খাবারের আগে আল্লাহর নাম নেয়, ডান হাতে খায়, নিজের সামনে থেকে খায়, খাবারের অপচয় করে না এবং শেষে আল্লাহর প্রশংসা করে।

এমন অনেক আছে, যে খাবারের প্রতি এতটাই আসক্ত যে তার জীবনের বড় অংশই খাবার, স্বাদ ও ভোগের পেছনে চলে যায়। অন্যদিকে এমন ব্যক্তিও থাকতে পারে, যে আল্লাহর বৈধ নিয়ামতকে নিজের ওপর অযথা হারাম করে নেয়। ইসলাম উভয় চরমপন্থা থেকে দূরে রেখে মধ্যম ও ভারসাম্যপূর্ণ পথ দেখিয়েছে। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেন, ‘আর তারা যখন ব্যয় করে, তখন অপব্যয় করে না এবং কৃপণতাও করে না; বরং তাদের ব্যয় হয় উভয়ের মধ্যবর্তী ভারসাম্যপূর্ণ।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬৭)

আল্লাহ তাআলা আমাদের হালাল ও পবিত্র রিজিক দান করুন, তাঁর নিয়ামতের যথাযথ শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক দিন এবং খাবারের ক্ষেত্রে অপচয় ও অতিভোজন থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
সুপারস্টারনিউজ/এআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category