সুপারস্টারনিউজ ধর্ম ডেস্ক : কোরআন আল্লাহর কালাম। এর আয়াতগুলোর বিন্যাস ও সুরাগুলোর নামকরণ সবই আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহির মাধ্যমে নামগুলো অবগত হয়ে তা সাহাবি ও উম্মতকে জানিয়ে দিতেন। জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) বলেন, ‘কোরআন মজিদের আয়াতসমূহের বিন্যাস ও সুরাগুলোর নামকরণ সবই আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত।’ (আল ইতকান : ১/১৪৮) আল্লামা তাহির ইবন আশুর (রহ.) বলেন, সুরাগুলোর নাম ওহি নাজিলের সময় থেকেই নির্ধারিত। (আত তাহরির ওয়াত তানবির : ১/৮৮)
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, উসমান (রা.) বলেছেন, যখন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর কোনো আয়াত নাজিল হতো, তখন তিনি ওহি-লেখক কাউকে ডেকে বলতেন, এই আয়াত অমুক সুরার মধ্যে অমুক স্থানে রাখো।
তাঁর ওপর একটি কিংবা দুটি আয়াত অবতীর্ণ হলেও তিনি ঐরূপ বলতেন। সুরা আনফাল প্রথম দিককার মাদানি সুরা এবং সুরা তাওবা শেষের দিককার মাদানি সুরা। দুটি সুরার বিষয়বস্তু প্রায় একই। সে জন্য সুরা দুটিকে আমি পাশাপাশি রেখেছি।
সে জন্য আমি দুটি সুরার মাঝে বিসমিল্লাহ.. লিখিনি। (আবু দাউদ, হাদিস : ৭৮৬)
এতে বোঝা যায় যে কোরআনের বিন্যাস আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। জিবরিল (আ.) প্রতিবছর রমজানে মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে কোরআন পাঠ করতেন এবং তাঁর মৃত্যুর বছরে দুইবার পাঠ করে শোনান। (বুখারি, হাদিস : ৪৯৯৭, ৪৯৯৮)
কিছু আলেমের মতে, কোরআনের কিছু সুরার নাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রেখেছেন, আর কিছু সাহাবায়ে কেরামের ইজতিহাদে নির্ধারিত হয়েছে। ‘ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা’য় এভাবে এসেছে—‘আমরা এমন কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল পাইনি যেখানে বলা হয়েছে যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সুরার নাম রেখেছেন।
তবে কিছু সহিহ হাদিসে কিছু সুরার নাম পাওয়া যায় : যেমন আল-বাকারাহ, আলে ইমরান ইত্যাদি। অন্য সুরাগুলোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ধারণা হলো সেগুলোর নাম সাহাবায়ে কেরাম রেখেছেন।’
সুপারস্টারনিউজ/এআর