বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

‘টক্সিক’ দিয়ে হানিতার নতুন শুরু

প্রতিনিধির নাম : / ২২ Time View
প্রকাশকাল : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুপারস্টারনিউজ বিনোদন ডেস্ক : ইয়াশ অভিনীত ‘টক্সিক: অ্যা ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ সিনেমার গান ‘টক্সিক’-এর মাধ্যমে মূলধারার সংগীতে বড় পরিসরে পা রেখেছেন গায়িকা ও গীতিকার হানিতা ভামব্রি। গানটিতে বিশাল মিশ্রর সঙ্গে কণ্ঠ দেয়ার পাশাপাশি এর কথা লিখেছেন তিনি। স্বাধীন সংগীতে নিজের তৈরি পরিচয় ধরে রেখেই এবার আরও বড় শ্রোতাদের কাছে পৌঁছাতে চান এই শিল্পী।

সম্প্রতি মানিকন্ট্রোলের সঙ্গে আলাপকালে নিজের সংগীতযাত্রা, ‘টক্সিক’-এ কাজের অভিজ্ঞতা, বিশাল মিশ্রর সঙ্গে কাজের স্বপ্ন, স্বাধীন ও মূলধারার সংগীতের ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন হানিতা।

‘টক্সিক’-এর মতো বড় সিনেমার জন্য গান করার প্রস্তাব পাওয়ার পর তার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল, “আমার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল, এটা যেন নষ্ট না করি।” হানিতা জানান, ভালো কোনো সুযোগ এলে অনেক সময় অতিরিক্ত ভাবার প্রবণতা তৈরি হয়। তবে তিনি ফলাফল নিয়ে না ভেবে পুরোপুরি কাজে মন দিয়েছিলেন এবং নিজের সেরাটা দিতে চেয়েছিলেন।

হানিতার কাছে ‘টক্সিক’ এমন একটি সুযোগ, যেখানে সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই মিলে গেছে। গান লেখা তার পরিচিত জায়গা, আর সুরটিও তার কণ্ঠের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে গেছে। আলাদা আবহ ও নিজস্ব জগৎ তৈরি করে এমন সংগীতের প্রতি তার বরাবরের আকর্ষণ। ‘টক্সিক’-এর মধ্যেও তিনি সেই স্বতন্ত্র আবহ খুঁজে পেয়েছেন।

বিশাল মিশ্রর সঙ্গে কাজ করাটিও হানিতার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা। তার ভাষায়, বিশালের সংগীতবোধ অসাধারণ এবং তিনি এখনো হানিতার অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা। তার সঙ্গে কাজ করা ছিল হানিতার স্বপ্ন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিনেমার জন্য কাজ করলেও নিজের শিল্পীসত্তা থেকে সরে যেতে হয়নি তাকে। বড় সিনেমার জগতেও তার কণ্ঠ, লেখা এবং অপেক্ষাকৃত গাঢ় ও আবহনির্ভর সংগীতের জায়গা তৈরি হয়েছে।

‘টক্সিক’-এ গায়িকা ও গীতিকার—দুই ভূমিকাতেই ছিলেন হানিতা। গানটির মাধ্যমে তিনি আকর্ষণ, ভঙ্গুরতা, বিপজ্জনক অনুভূতি এবং মানসিক দ্বন্দ্ব একসঙ্গে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তার মতে, গানটি শুধু তীব্র আকর্ষণের গল্প নয়; এমন একজনের প্রতি টানও এতে রয়েছে, যাকে নিজের জন্য ভালো নয় বলে জানা সত্ত্বেও আকর্ষণ অনুভূত হয়। লেখায় সেই টানাপোড়েনটিই ধরতে চেয়েছেন তিনি।

কণ্ঠ দেয়ার সময়ও অতিরিক্ত পরিবেশনের বদলে ঘনিষ্ঠ ও ব্যক্তিগত অনুভূতি তৈরি করতে চেয়েছেন হানিতা। এজন্য ব্যবহার করেছেন ফ্যালসেটো এবং কিছুটা কর্কশ, বাতাসময় কণ্ঠের আবহ। তাঁর বিশ্বাস, আবেগকে পুরোপুরি সামনে না এনে কিছুটা আড়ালে রাখার মধ্যেও শক্তি থাকে। তিনি চেয়েছেন তার কণ্ঠ যেন আলাদা করে নিজেকে জানান না দিয়ে শ্রোতাকে গানের জগতে টেনে নেয়।

‘ওহ সাত দিন’, ‘পরছাই’, ‘ওশানস’ ও ‘ডর নেহি’-এর মতো গান এবং নিজের প্রথম অ্যালবাম ‘শোহরাত’-এর মাধ্যমে স্বাধীন শিল্পী হিসেবে পরিচিতি তৈরি করেছেন হানিতা। মূলধারার সিনেমায় কাজ করলেও নিজের সংগীতকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানান তিনি। বরং তার সংগীত কোথায় থাকতে পারে এবং কতটা বড় পরিসরে পৌঁছাতে পারে—সেই সম্ভাবনা আরো বিস্তৃত হয়েছে।

স্বাধীন শিল্পী হিসেবে নিজের হাতে একটি জগৎ তৈরি করা যায়। অন্যদিকে, সিনেমার সংগীতে আগে থেকেই তৈরি একটি জগতে প্রবেশ করতে হয়। সেখানে গানের আবেগের সত্যিটা খুঁজে বের করার পাশাপাশি নিজের কিছু অংশও যোগ করতে হয়। হানিতার কাছে এই অভিজ্ঞতা সৃজনশীলভাবে বেশ রোমাঞ্চকর। তার উপলব্ধি, স্বাধীন শিল্পী ও মূলধারার সংগীতশিল্পী—এই দুই পরিচয় পরস্পরের বিপরীত নয়। নিজের সংগীতের মূল বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেই দুই জগতের মধ্যে চলাফেরা করা সম্ভব।

নিজের প্রথম অ্যালবাম ‘শোহরাত’কে হানিতা তার সবচেয়ে ব্যক্তিগত, আবেগঘন ও সত্যিকারের কাজ হিসেবে দেখেন। অ্যালবামটিতে কোনো কিছু আড়াল না করে নিজের আবেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। ‘মোহাব্বত’-এ হৃদয়ভাঙার গল্প, ‘জেহের’-এ হাউস ইডিএম, ‘খুন’-এ হত্যারহস্য, ‘মচ্ছর’-এ বোসা নোভা, ‘কড়ভা’-য় জিটার এবং ‘ভেড়িয়া’-য় র‍্যাপের মতো ভিন্নধর্মী কাজ করেছেন।

জীবনের যেসব অভিজ্ঞতা তাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল, সেগুলোকে সৃজনশীলভাবে প্রকাশ করেছেন হানিতা। রাগ ও কষ্টকে পরিণত করেছেন শক্তিতে। এখন সেই গানগুলো শুনলে নিজের বেড়ে ওঠাটা বুঝতে পারেন তিনি। তাঁর ভাষায়, লেখায় এখনো আবেগ রয়েছে, তবে আগের তুলনায় রাগ কমেছে। আগে তিনি সরাসরি ক্ষত থেকে লিখতেন, এখন সেই ক্ষতকে বোঝার চেষ্টা করেন—কে আঘাত করেছিল, তখন তিনি কেমন ছিলেন এবং সেই অভিজ্ঞতা তাকে কী শিখিয়েছে। বর্তমানে তাঁর নতুন গানগুলো আরো স্তরযুক্ত ও সিনেমাটিক হয়ে উঠছে, তবে আবেগের জায়গায় সততা আগের মতোই রয়েছে।

জায়েদেন, রাঘব মিটল, সেজাল ও অবন্তী নাগরালের মতো শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন হানিতা। তার মতে, সবচেয়ে ভালো সহযোগিতা তখনই হয়, যখন দুই শিল্পী সত্যিকার অর্থে একে অপরের সংগীত পছন্দ করেন। তিনি এমন শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে চান, যারা সংগীত, গান লেখা কিংবা পৃথিবীকে দেখার ক্ষেত্রে তার চেয়ে ভিন্ন কোনো দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন।

প্রতিটি সহযোগিতা থেকেই কিছু না কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে তার। কখনো বুঝেছেন, যে বিষয়টি নিয়ে বেশি ভাবছিলেন সেটিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। আবার কখনো কোনো সহযোগী তার এমন একটি দিক সামনে এনেছেন, যেটি তিনি নিজেই আগে জানতেন না। ‘কাহুন তো ম্যায় ভি কেয়া’ গানটিতে জায়েদেনের সঙ্গে কাজ করার সময় এমন অভিজ্ঞতাই হয়েছিল তার।

মূলধারায় আসার পর নতুন চাপ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে বলেও স্বীকার করেছেন হানিতা। বড় প্ল্যাটফর্মে শ্রোতা যেমন বাড়ে, তেমনি কোনো কাজ কেমন শোনা বা দেখা উচিত—তা নিয়েও প্রত্যাশা বাড়ে। তবে নিজের পরিচয় তৈরি করতে তিনি বহু বছর সময় দিয়েছেন। তাই পরিসর বড় হয়েছে বলে সেটি ছেড়ে দিতে চান না।

হানিতার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো, শুরুতে মানুষ কেন তার সংগীতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল, সেটি মনে রাখা। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “বাণিজ্যিকভাবে কোনো কিছু ‘সঠিক’ মনে হচ্ছে বলেই শুধু আমি তা করতে চাই না।” নিজের সংগীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পরিবর্তন এবং শ্রোতাদের চমকে দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও তিনি চান, তার গান শুনলে যেন আলাদা করে ‘হানিতা’র ছাপ বোঝা যায়।

গীতিকার-শিল্পী হিসেবে সহজ-সরল ইউকুলেলে সংগীতের জায়গা থেকে ডার্ক পপের দিকে যাওয়ার সময় তার আগের অনেক শ্রোতা দূরে সরে গিয়েছিলেন। তবু নিজের অনুভূতি ও লেখার প্রতি সৎ থাকাকেই গুরুত্ব দেন হানিতা। তার মতে, গানের মধ্যে নিজের মন থাকা জরুরি। গল্প বলা এবং নিজের প্রতি সৎ থাকা তার শিল্পীসত্তার মূল অংশ। শেষ পর্যন্ত নিজের কোন জায়গাগুলোতে আপস করা যাবে না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

‘টক্সিক’-এর মাধ্যমে আরো বড় শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানোর পর সামনে স্বাধীন সংগীত ও সিনেমার গান—দুই পথেই এগোতে চান হানিতা। তার কাছে সিনেমার গান ও স্বাধীন সংগীত আলাদা দুটি পথ নয়। গল্প বলা এবং সেই গল্পের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে যুক্ত হওয়াই তার মূল লক্ষ্য।

বর্তমানে অনেক স্বাধীন সংগীত নিয়ে কাজ করছেন তিনি। পাশাপাশি সিনেমা ও ওটিটির জন্য গান লেখার বিষয়েও আগ্রহী। গান লেখার চেয়ে বেশি ভালোবাসেন; এমন কিছু নেই বলেও জানান তিনি। ‘টক্সিক’ তার সংগীতের জগতকে আরো বড় করার বিষয়ে আগ্রহ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে সর্বভারতীয় সিনেমায় একটি ইংরেজি গান থাকা তার কাছে ‘সত্যিই আইকনিক’।

আগামী দিনে সংগীত, দৃশ্যভাবনা, গান লেখা ও গল্প বলার ধরনে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চান হানিতা। নতুনভাবে শ্রোতাদের চমকে দেয়ার ইচ্ছা নিয়েই শুরু করতে চান তার নতুন অধ্যায়।

*মানিকন্ট্রোল অবলম্বনে

সুপারস্টারনিউজ/এআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category