বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন

রবিউস সানির তাৎপর্য ও মহিমান্বিত ৭ আমল

প্রতিনিধির নাম : / ৩৫ Time View
প্রকাশকাল : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুপারস্টারনিউজ ধর্ম ডেস্ক : ইসলামী বর্ষপঞ্জির প্রতিটি মাসই একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর আনুগত্য ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ। সময়ের প্রতিটি দিন-রাত মানুষের আমলনামায় যুক্ত হচ্ছে; তাই কোনো মাসকে শুধু ক্যালেন্ডারের একটি পৃষ্ঠা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

রবিউস সানি—যাকে রবিউল আখিরও বলা হয়—হিজরি সনের চতুর্থ মাস।
এ মাসকে ঘিরে শরিয়তে কোনো নির্দিষ্ট ফরজ বা বিশেষ ইবাদত নির্ধারিত হয়নি। তবে অন্যান্য মাসের মতো এ মাসও নেক আমল, তওবা, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা ১২টি—আল্লাহর কিতাবে, যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকেই।

এর মধ্যে চারটি সম্মানিত।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৩৬)
রবিউস সানিতে যেসব আমলে মনোযোগী হবেন

১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া : নামাজ মুমিনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলোর একটি। আল্লাহ বলেন, ‘আমার স্মরণের জন্য নামাজ কায়েম করো।’(সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১৪)

রবিউস সানি হোক নিজের নামাজের হিসাব নেওয়ার মাস—কোন নামাজ কাজা হচ্ছে কি না, জামাতে নামাজের ব্যাপারে কতটা যত্নশীল এবং নামাজে একাগ্রতা কতটুকু—এসব নিয়ে আত্মসমালোচনা করা যেতে পারে।

২. কোরআন তিলাওয়াত ও বোঝার চেষ্টা করা : আল্লাহর কিতাব মুমিনের জন্য পথনির্দেশ। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই এই কোরআন এমন পথের নির্দেশনা দেয়, যা সর্বাধিক সরল ও সঠিক।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৯)

তাই রবিউস সানিতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ কোরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি আয়াতের অর্থ ও শিক্ষা বোঝার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।

৩. বেশি বেশি জিকির করা : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘জেনে রাখো, আল্লাহর জিকিরেই অন্তর প্রশান্ত হয়।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৮)

সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন জিকির, তাসবিহ, তাহমিদ, তাকবির, তাহলিল ও ইস্তিগফার নিয়মিত করা যায়।

৪. তওবা ও ইস্তিগফার করা : মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। তাই নতুন একটি মাসকে নিজের জীবন সংশোধনের উপলক্ষ বানানো অত্যন্ত সুন্দর আমল। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩১)

অতীতের গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়ে সেগুলো পরিত্যাগের দৃঢ় সংকল্প করা এবং বেশি বেশি ইস্তিগফার করা উচিত।

৫. নফল রোজা রাখা : রবিউস সানির জন্য বিশেষ কোনো রোজা নির্ধারিত নেই। তবে যে ব্যক্তি নিয়মিত নফল রোজা রাখেন, তিনি তাঁর অভ্যাস অনুযায়ী রোজা রাখতে পারেন। সোমবার-বৃহস্পতিবারের রোজা কিংবা মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজা সাধারণ নফল আমল হিসেবে রাখা যায়। তবে এগুলোকে রবিউস সানির বিশেষ আমল মনে করা ঠিক নয়।

৬. দান-সদকা ও মানুষের উপকার করা : ইসলামে মানুষের কল্যাণ ও দানশীলতার ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নিজেদের জন্য যে কল্যাণকর কাজ আগে পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১১০)

তাই দরিদ্র-অসহায়দের সাহায্য, আত্মীয়ের খোঁজ নেওয়া, অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া, ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া—এসব আমলের মাধ্যমে মাসটিকে অর্থবহ করা যায়।

৭. চরিত্র সংশোধনের চেষ্টা করা : ইবাদত শুধু নামাজ-রোজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। মিথ্যা, গিবত, হিংসা, অহংকার, প্রতারণা ও অন্যের হক নষ্ট করা থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করা উচিত।

রবিউস সানিকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কোনো দিন বা রাতে বিশেষ নামাজ, বিশেষ রোজা, বিশেষ ফজিলতের জিকির কিংবা নির্দিষ্ট সংখ্যায় এমন কোনো আমলকে সুন্নত মনে করা উচিত নয়, যার নির্ভরযোগ্য শরয়ি প্রমাণ নেই। কারণ ইবাদতের ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা অনুসরণ করা অপরিহার্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের এ দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুন উদ্ভাবন করবে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৬৯৭)
সুপারস্টারনিউজ/এআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category