সুপারস্টারিনউজ তথ্যপ্রযুিক্ত ডেস্ক : চাঁদের কয়েক দশকের পর্যবেক্ষণমূলক তথ্য বিশ্লেষণ ও মানুষের স্থায়ী বসবাস গড়ে তোলার পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল এনেছে মার্কিন বহুজাতিক প্রযুক্তি ও কনসাল্টিং কোম্পানি আইবিএম ও নাসা।
বৃহস্পতিবার প্রকাশ পাওয়া এ মডেলটি গবেষকদের নানা জটিল কাজ সহজ করতে সাহায্য করবে।
‘নাসা-আইবিএম লুনার ফাউন্ডেশন মডেল’ নামের এআই টুলটি বিশেষভাবে চাঁদ নিয়ে গবেষণার জন্য তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
মডেলটি তৈরিতে ‘নাসা লুনার রিকনিস্যান্স অরবিটার’সহ চারটি মিশনের নয়টি যন্ত্রের সংগ্রহ করা ৩০টিরও বেশি স্তরের ডেটা ব্যবহৃত হয়েছে।
মডেলটি আইবিএম ও মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তৈরি ‘পৃথিবী’ পরিবারের বিভিন্ন ওপেন ফাউন্ডেশন মডেলের সঙ্গে যোগ হল, যা এর আগে ভূপৃষ্ঠের লোকেশননির্ভর ও আবহাওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনে ব্যবহৃত হয়েছে।
নতুন মডেলটির মাধ্যমে গবেষকরা চাঁদের চিরছায়াঘেরা অঞ্চলগুলোতে বরফের সম্ভাব্য উৎস খুঁজে বের করতে এবং নিরাপদ অবতরণস্থল নির্বাচনের জন্য এসব গর্তের সঠিক মানচিত্র তৈরি ও আগ্নেয়গিরির বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে গবেষণা করতে পারবেন।
অতীতে এসব কাজের জন্য বিজ্ঞানীদের ম্যানুয়ালি বা নিজ হাতে মানচিত্র ও ছবি ঘেঁটে দেখতে বা অপেক্ষাকৃত কম রেজুলিউশনের মেশিন লার্নিং টুলের ওপর নির্ভর করতে হত।
নাসা ও আইবিএম বলেছে, বেঞ্চমার্ক টেস্ট বা তুলনামূলক মূল্যায়নে দেখা গেছে, বহুল ব্যবহৃত প্রচলিত বিভিন্ন পদ্ধতির তুলনায় মডেলটি চাঁদের উপরিভাগের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পেরেছে।
মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর কাছে চাঁদের বরফ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তা পানি ও অক্সিজেনের উপস্থিতি নির্দেশ করে। চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি বসানো ও মঙ্গল গ্রহের মিশনে রকেটের জ্বালানি তৈরির জন্য এসব সম্পদকে অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।
নাসার ‘আর্টেমিস’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৮ সালে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে চাঁদে মানব উপস্থিতি নিশ্চিত ও ভবিষ্যতের মঙ্গল মিশনের প্রস্তুতি হিসেবে নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্যই এ পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।
সুপারস্টারিনউজ/এআর