শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৫ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চোখ রাঙাচ্ছে অ্যানথ্রাক্স

প্রতিনিধির নাম : / ৩ Time View
প্রকাশকাল : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুপারস্টারনিউজ প্রতিবেদক : পাশের বাড়ির একটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়লে বাঁচানো যাবে না দেখে সেটি জবাই করা হয়। ওই মাংস কাটাকাটির কাজে অংশ নেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছেরদিয়াড় গ্রামের কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম। তখনো তিনি বুঝতে পারেননি, অসুস্থ পশুটির সংস্পর্শই তাকে ঠেলে দিচ্ছে মারাত্মক সংক্রামক রোগ অ্যানথ্রাক্সের দিকে।

​গরু জবাইয়ের দুই-তিন দিন পর রফিকুলের হাত ও আঙুলে ছোট ছোট গুটি ও ফোস্কার মতো দাগ দেখা দেয়। কয়েক দিনের মধ্যে সেগুলো বড় হয়ে ক্ষতে পরিণত হয়। পাশাপাশি ক্ষতের মাঝখান কালো হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে দেখা দেয় তীব্র জ্বর ও শরীরব্যথা। প্রথমে বিষয়টিকে সাধারণ চর্মরোগ মনে করে গুরুত্ব না দিলেও ক্ষত দ্রুত বাড়তে থাকায় দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান তিনি। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা রফিকুলকে জানান, তিনি অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত।

​ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, “অসুস্থ গরু জবাই করার পর মাংস কাটাকাটি ও ধোয়ামোছা করেছি। তখন বুঝতে পারিনি এভাবে রোগ ছড়াতে পারে। কয়েক দিন পর হাতে গুটি ওঠার পর তা কালো হয়ে ঘায়ে পরিণত হয়। এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি।”

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ২৩ দিনে দৌলতপুর উপজেলায় অন্তত ৪৭ জন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ অসুস্থ গবাদিপশু জবাই, কাঁচা মাংস কাটাকাটি কিংবা প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

​রফিকুলের মতো আরো অনেকেই একই উপসর্গ নিয়ে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ২৩ দিনে দৌলতপুর উপজেলায় অন্তত ৪৭ জন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ অসুস্থ গবাদিপশু জবাই, কাঁচা মাংস কাটাকাটি কিংবা প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

এর আগে, দৌলতপুর উপজেলার কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকাকে বিশেষ করে ভারত সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলোকে অ্যানথ্রাক্সের ‘রেড জোন’ বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে, বর্তমানে রোগটির বিস্তার কেবল ওই এলাকাগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকেও আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে আসছেন। এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

​চিকিৎসক ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো অসুস্থ পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। কোনো পশুর শরীরে অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অন্যদিকে, মানুষের শরীরে কোনো অস্বাভাবিক গুটি, ফোসকা বা কাঁচা ঘায়ে কালো ক্ষত দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

​দৌলতপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব জানান, অ্যানথ্রাক্স মূলত গবাদিপশুর একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত মারাত্মক রোগ, যা আক্রান্ত পশু থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। ​রোগটির বিস্তার ঠেকাতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে, মাঠপর্যায়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অসুস্থ পশু গোপনে জবাই ও বিক্রি করার প্রবণতা।

​স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাজার ও গ্রামগুলোতে অসুস্থ পশু জবাই ও মাংস বিক্রির প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। তাই হাট-বাজারে পশু বিক্রি ও জবাই প্রক্রিয়ায় সরকারি নজরদারি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

​দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চর্মরোগ চিকিৎসক ডা. এমদাদুল হক টোটন বলেন, “সারা বছরই কমবেশি অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে আসেন। তবে ইদানীং সংক্রমণের মাত্রা বেড়েছে। এখন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। সংক্রামক এই রোগ নিয়ন্ত্রণে অসুস্থ পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা জরুরি।”

​দৌলতপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব জানান, অ্যানথ্রাক্স মূলত গবাদিপশুর একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত মারাত্মক রোগ, যা আক্রান্ত পশু থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। ​রোগটির বিস্তার ঠেকাতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে, মাঠপর্যায়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অসুস্থ পশু গোপনে জবাই ও বিক্রি করার প্রবণতা।

দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে পশু অসুস্থ হয়ে পড়লে আর্থিক ক্ষতির ভয়ে মালিকেরা সেটি দ্রুত কম দামে বিক্রি কিংবা জবাই করেন। অসচেতনতার কারণে ওই পশুর কাঁচা মাংস কাটাকাটি ও ধোয়ামোছা করতে গিয়ে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। আক্রান্ত পশু মারা গেলে তা খোলা জায়গায় না ফেলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী নিরাপদ উপায়ে গভীর গর্ত করে পুঁতে ফেলতে হবে।”

​তিনি বলেন, “কেউ যাতে অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করতে না পারেন সেজন্য সচেতনতার পাশাপাশি ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
সুপারস্টারনিউজ/এআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category