সুপারস্টারনিউজ বিনোদন ডেস্ক : একসময় ভালোবাসার গল্প বলতে পর্দায় পাশাপাশি ফুটে উঠত দুটি ফুল। নায়ক-নায়িকার চোখে চোখ রাখা, লাজুক হাসি কিংবা হাতের মৃদু স্পর্শেই বুঝে নেওয়া যেত প্রেমের গভীরতা। তারপর দৃশ্য বদলাত, গল্প এগিয়ে যেত অন্য অধ্যায়ে। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে সিনেমার পর্দায় ভালোবাসা প্রকাশের ভাষাও। এখন প্রেম শুধু চোখের ভাষায় আটকে নেই। আলিঙ্গন, চুম্বন কিংবা আরও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের মধ্য দিয়েই অনেক সিনেমায় উঠে আসছে সম্পর্কের আবেগ ও টানাপোড়েন। বিশেষ করে বলিউডের সাম্প্রতিক সিনেমাগুলোতে প্রেমের গল্পে অন্তরঙ্গতার উপস্থিতি যেন আরও স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। নির্মাতারাও গল্পের আবেগ ও চরিত্রের সম্পর্ককে আরও কাছ থেকে তুলে ধরতে এমন দৃশ্যের আশ্রয় নিচ্ছেন। বেশ কিছু সিনেমায় ভালোবাসা, আকর্ষণ ও ঘনিষ্ঠতার এমন দৃশ্য দর্শকদের নজর কেড়েছে। পর্দার সেই আলোচিত পাঁচটি অন্তরঙ্গ দৃশ্য নিয়েই এই রচনায় থাকছে আলোচনা।
১. রাগিণী এমএমএস টু : তিনি ছিলেন পর্নো তারকা। আর এখন রীতিমতো বলিউডের নায়িকা। সানি লিওনের কথাই যে বলছি তা অনেকেই বুঝে ফেলেছেন নিশ্চয়। এ পর্নোস্টার যখন থেকে নায়িকা হয়েছেন তখন থেকেই তৈরি হয়েছে নানান বিতর্ক৷ তার প্রথম ছবি ‘জিসম টু’তে যথেষ্ট পরিমাণে খোলামেলা হওয়া সত্ত্বেও অভিনয় না জানার কারণে নিন্দামন্দও শুনতে হয়েছিল৷ তবে ক্রমশ তিনি সে দোষ কাটিয়ে উঠেছেন৷ পরের ছবি ‘রাগিণী এমএমএস টু’ ছবিতে অভিনয় ও যৌনদৃশ্য দুটো ব্যাপারেই কাঁপিয়ে দিলেন৷ বিশেষ করে যৌন আবেদনমূলক দৃশ্যগুলোতে তিনি তো একেবারে যথাযথ অভিনয় করলেন৷ তার হাবেভাবে প্রয়োজন অনুসারে যৌন কামনা মারাত্মকভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
২. বিএ পাস : এই ছবির যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাহিনি যাকে ঘিরে তিনি হচ্ছেন শিল্পা শুক্লা৷ অজয় বহেল পরিচালিত ‘বিএপাস’ ছবিতে তার দারুণ সাহসী যৌনদৃশ্য দেখার জন্য দর্শকরা হলমুখী হয়েছিলেন৷ এর আগে শিল্পা খুব বেশি পরিচিত না হলেও ‘চাক দে ইন্ডিয়া’ তে কাজ করে প্রশংসা পেয়েছিলেন৷ কিন্তু তারপরই যে এ রকম একটা সাহসী পদক্ষেপ তিনি নিয়ে বসবেন তা অবশ্য কেউ কল্পনাও করেনি৷ ছবিতে তিনি শিক্ষিকার বেশে এক চরম যৌন আকাঙ্খাপ্রবণ নারী৷ বিভিন্ন পুরুষকে সে তার আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ববলে কাছে টেনে তার সঙ্গে মিলিত হস৷ বিনিময়ে সেই পুরুষদের টাকা মেটান তিনি৷ অর্থাৎ পুরুষ যৌনকর্মীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ হয়েছে শুল্কা।
৩. হেট স্টোরি : বছর দুয়েক আগের ছবি ‘হেট স্টোরি’৷ এর মধ্যে একাধিক সাহসী ছবি বলিউডে হয়ে গিয়েছে৷ কিন্তু এই ছবিতে পাওলি দামের এক সে বড় কর এক সাহসী দৃশ্য সকলকে আজও চমকে দেয়৷ এটি বলিউডে পাওলির প্রথম কাজ৷ সেখানেই তিনি চিত্রনাট্যের নাটকীয়তায় ও ঘটনাচক্রে এক বারবণিতা হয়ে যান৷ এবং তারপর সবাইকে নিজের শরীরী মহিমায় মুগ্ধ করতে থাকেন৷ সবাই সেই ফাঁদে পা দেয়৷ কিন্তু সে পা দিক৷ কিন্তু পাওলির আগে বলিউডেরই কোনও মেয়ে যে সাহস দেখায়নি তিনি বাঙালি হয়ে সেই অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয়টা দিয়েই ফেললেন৷ অনেকগুলি দৃশ্যে তাকে যৌন সঙ্গমে তো দেখা যায়ই, তাছাড়াও একটি দৃশ্যে পুরো পিঠ খোলা রেখে পর্দায় হাজির হন৷
৪. শুটআউট অ্যাট ওয়াডলা : এই ছবিতে কঙ্গনা রানাওয়াত ও জন আব্রাহামের অন্তরঙ্গ দৃশ্যের কথা সবাই মনে রেখেছেন৷এর আগে কঙ্গনা রিভিলিং পোশাক এবং অভিনয় দক্ষতায় স্বাচ্ছন্দ্য দেখালেও তার এই সাবলীল যৌনদৃশ্যে অভিনয়ের অভ্যেসটা অনেকেই জানতেন না৷এখানে একটি দৃশ্যে জন আব্রাহাম তার ঠোঁট কামড়ে ধরেন, যা দেখে অনেকেই বেশ যৌন আবেদনে কাতর হয়ে উঠেছিলেন৷ আর জনের মতো সুঠাম চেহারা অভিনেতার সঙ্গে কঙ্গনার মতো সুন্দরী মেয়ের শয্যাদৃশ্য সকলেই বেশ উপভোগ করেছিলেন।
৫. ডার্টি পিকচার : ছবিটির বিষয়েই বিতর্কিত দৃশ্যের শেষ ছিল না৷ ভারতের দক্ষিণী অভিনেত্রী সিল্ক স্মিতার বায়োপিকে যৌনতা থাকবে না তা তো সম্ভব নয়৷ ছবিতে নাসিরুদ্দিনের সঙ্গে বিদ্যার বেশ কিছু দৃশ্য নিয়ে ভারতীয় সেন্সর বোর্ড প্রচুর আপত্তি তোলে৷ তারপর সেটির ওপর কাঁচিও চলে৷ টিভিতে রাত ১১টার মধ্যে শো টাইমে সেন্সরড ভার্সান এবং রাত ১১টার পর আনসেন্সরড ভার্সানটি দেখানো হয়৷ আর বিদ্যার সাহস নিয়ে তো ভালো মন্দ দুধরনের সমালোচনাই চলতে থাকে।
সুপারস্টারনিউজ/এআর