প্রধান নিউজ
দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে, দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী যে সাহাবির তিলাওয়াত শুনে অশ্রুসিক্ত হয়ে যেতেন মহানবী (সা.) ক্যাস্টর অয়েলের ৫ বিস্ময়কর ব্যবহার প্রযুক্তিনির্ভর সিনেমায় সিনথিয়া তাহসিফ হত্যা মামলা: তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে দীপ বাংলাদেশ ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মধ্যে ২০০০ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর সাইবারট্রাক উৎপাদন বন্ধের ইঙ্গিত ইলন মাস্কের যুদ্ধের শুরুর তুলনায় ইরানের সামরিক বাহিনী এখন ‘আরও শক্তিশালী’: সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ধামরাইয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা সেই প্রবীণ দম্পতির পাশে প্রশাসন ওপার থেকে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে ফ্যাসিবাদীরা: সপু
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন

এআই কি সত্যিই ‘মানুষকে মেরে ফেলতে’ পারে : সম্ভাব্য পাঁচ পরিস্থিতি

প্রতিনিধির নাম : / ৩৩ Time View
প্রকাশকাল : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুপারস্টারনিউজ তথ্যপ্রযুিক্ত ডেস্ক : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কি একদিন মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে? এ নিয়ে এআই গবেষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এই দশকের শেষ নাগাদ এআই মানুষের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

২২ সেপ্টেম্বর গবেষক ও শিক্ষাবিদদের আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কনভারসেশন’-এ প্রকাশিত এক লেখায় এআইয়ের কারণে মানবজাতি কীভাবে বিপদের মুখে পড়তে পারে, তার পাঁচটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের এআই অধ্যাপক টবি ওয়ালশ।

ওয়ালশের তালিকায় রয়েছে সুপারইন্টেলিজেন্স, ভুল লক্ষ্য নির্ধারণ, জৈব অস্ত্র, পারমাণবিক যুদ্ধ এবং শেষ পর্যন্ত এআইয়ের মাধ্যমে মানুষের নিজেদেরই ধ্বংস করার সম্ভাবনা রয়েছে।

কিন্তু এআই ঠিক কীভাবে মানবজাতিকে ধ্বংস করতে পারে? টবি ওয়ালশ আশঙ্কাগুলোকে মোটামুটি পাঁচটি পরিস্থিতিতে ভাগ করেছেন।

১. আমরা কখনোই জানতে পারব না
একটি ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ কী করতে সক্ষম, তা অনুমান করতে হলে হয়তো আমাদেরও সুপারইন্টেলিজেন্ট হতে হবে।

এআই নিয়ে ‘ডুম’ বা মানবজাতির বিলুপ্তির আশঙ্কা করা ব্যক্তিরা প্রায়ই এমন যুক্তি দেন।
তবে ওয়ালশের মতে, সুপারইন্টেলিজেন্স এখনো হয়তো আমাদের থেকে বেশ দূরে।

বর্তমান এআই মডেলগুলো নির্দিষ্ট কিছু সমস্যা সমাধানে অসাধারণ হলেও সব ধরনের কাজে তারা মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান নয়।
তবে সম্প্রতি এআইকে সবচেয়ে কঠিন বলে বিবেচিত সাতটি গণিত সমস্যার একটির সমাধান করতে দেখা গেছে। অন্য কয়েকটিতেও এগিয়ে যাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। ফলে এ বিষয়ে আশাবাদী থাকা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

২. পেপারক্লিপ
একটি সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে অসাধারণ দক্ষ হতে পারে। কিন্তু মানুষের টিকে থাকা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নাও থাকতে পারে।

অক্সফোর্ডের দার্শনিক নিক বোস্ট্রমের কল্পিত উদাহরণে একটি সুপারইন্টেলিজেন্ট এআইকে যত বেশি সম্ভব পেপারক্লিপ তৈরির লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে এআইটি পৃথিবীর সবকিছুকে—মানুষ, গ্রহ, এমনকি নক্ষত্রকেও—পেপারক্লিপ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

সমস্যাটি হলো, ভুলভাবে নির্ধারিত একটি লক্ষ্যও এআই নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে। এআই মানবজাতিকে ঘৃণা করবে এমন নয়; তার কাছে মানুষ কেবল এমন কিছু পরমাণুর সমষ্টি, যেগুলো পেপারক্লিপ তৈরিতে আরও ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়।

তবে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ক্ষমতাকে এক করে দেখার সুযোগ নেই। কোনো লক্ষ্য অর্জনে সুপারইন্টেলিজেন্ট হলেই যে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষমতাও তার থাকবে, এমন নয়।

পৃথিবীকে পেপারক্লিপ তৈরির কারখানায় পরিণত করতে নির্মাণের অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি পেলেও জনমত, আদালত বা পরিবেশবাদীদের বাধার মুখে প্রকল্প আটকে যেতে পারে।

পৃথিবীতে এমন অনেক বাধা ও জটিলতা আছে, যা অত্যন্ত বুদ্ধিমান কাউকেও নিজের ইচ্ছা সবার ওপর চাপিয়ে দেওয়া থেকে রুখে দেয়। তবে বাস্তবে ডেটাসেন্টারগুলোকে এই তাত্ত্বিক ‘পেপারক্লিপ’ পরিস্থিতির বর্তমান সংস্করণ হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

৩. জৈব অস্ত্র
সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই যদি কোনো ভয়ংকর নতুন জৈব অস্ত্র তৈরি করে বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে দেয়, তাহলে মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে।

এটি এআই ফিউচার্স প্রজেক্টের তৈরি ‘এআই ২০২৭’ পরিস্থিতির একটি সম্ভাব্য পরিণতি। উন্নত এআইয়ের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে পূর্বাভাস দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

গত মাসে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জেনেটিক ভাষা মডেল ব্যবহার করে ১৬টি নতুন ভাইরাস সংশ্লেষণের ঘোষণা দেওয়ার পর এ ঝুঁকি আরও বাস্তব বলে মনে হয়েছে।

গবেষকেরা নিজেরা ভাইরাস তৈরি করেননি। তাঁরা শুধু ভাইরাসগুলোর জেনেটিক সিকোয়েন্স একটি বাণিজ্যিক পরীক্ষাগারে পাঠান। প্রতিষ্ঠানটি ওই তথ্য ব্যবহার করে পরীক্ষাগারে ভাইরাসের নমুনা তৈরি করে গবেষকদের কাছে পাঠায়। পুরো প্রক্রিয়ায় খরচ হয়েছিল সর্বোচ্চ কয়েক লাখ ডলার।

তবে নতুন কোনো ভাইরাস দিয়ে পৃথিবীর সবাইকে মেরে ফেলা আশ্চর্য রকম কঠিন। এমন একটি ভাইরাস দরকার, যা একই সঙ্গে সহজে ছড়াবে এবং অত্যন্ত প্রাণঘাতী হবে। কিন্তু জীববিজ্ঞানের একটি নিয়ম হলো, যেসব ভাইরাস সহজে ছড়ায় সেগুলো সাধারণত তুলনামূলক কম প্রাণঘাতী।

অন্যদিকে অত্যন্ত প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা সাধারণত কমে যায়। কারণ আক্রান্ত মানুষ ছড়িয়ে দেওয়ার মতো সময় পাওয়ার আগেই মারা যেতে পারেন।

কোভিডে মানবজাতির ১ শতাংশেরও কম মানুষ মারা গেছে। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী মহামারি ছিল ব্ল্যাক ডেথ। চতুর্দশ শতাব্দীতে এই প্লেগ ইউরোপের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়।

তবে আজকের উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা ও স্যানিটেশনের কারণে প্লেগও অনেক কম প্রাণঘাতী হতে পারে।

৪. পারমাণবিক যুদ্ধ
এআই যদি পারমাণবিক অস্ত্রের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ঢুকে পড়ে এবং পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু করে দেয়, তাহলে কী হবে?

গত ৫০ বছরে আমরা ভুলবশত বেশ কয়েকবার পারমাণবিক যুদ্ধের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম।

পারমাণবিক অস্ত্রের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ইন্টারনেট থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন বলে দাবি করা হয়। কিন্তু ২০১০ সালে স্টাক্সনেট নামের একটি কম্পিউটার ওয়ার্ম ইরানের পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজ অচল করে দেয়। ধারণা করা হয়, ইউএসবি স্টিকের মাধ্যমে এটি সেখানে ঢুকেছিল।

এআই সামরিক বাহিনীকে ভুল গোয়েন্দা তথ্যও দিতে পারে। সেখান থেকে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যার পরিণতি ঠেকানো অসম্ভব।

এখানেও অবশ্য একটি সুখবর আছে—বিশ্বের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত কমেছে। তবে সেগুলো এখনো সম্ভবত পৃথিবীর অর্ধেক মানুষকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট।

আর মানুষ মারা যাবে শুধু পারমাণবিক বিস্ফোরণে নয়। এরপরের ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’—বিস্ফোরণের পর বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়া ও ধুলায় পৃথিবীর তাপমাত্রা কমে যাওয়ার পরিস্থিতি—যে দুর্ভিক্ষ ডেকে আনবে, সেটিই হতে পারে আরও বড় ঘাতক।

৫. নিজেরা নিজেদের ধ্বংস করা
সম্ভবত সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, শেষ পর্যন্ত মানুষ নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস করে ফেলবে। আর এআই সেই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

একটি পরিস্থিতি কল্পনা করা যাক—এআই ব্যাপক হারে মানুষের চাকরি কেড়ে নিল, ভুল তথ্য দিয়ে তথ্যের জগৎকে দূষিত করল, রাজনীতিকে আরও বিভক্ত করে দিল এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি সঙ্গীর মাধ্যমে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক দুর্বল করে দিল।

এভাবে সমাজ খুব সহজেই ভেঙে পড়তে পারে। ধীরে ধীরে আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারি, যখন বড় পরিসরে মানুষের জীবন টিকিয়ে রাখার মতো সামাজিক সক্ষমতাই আর অবশিষ্ট থাকবে না।
সুপারস্টারনিউজ/এআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category