সুপারস্টার নিউজ লাইফস্টাইল ডেস্ক : শিউলি ঝরছে উঠোনে, আকাশে তুলোর মতো মেঘ। দূরের মাঠে কাশফুলের দোল, আর ভোরের বাতাসে হঠাৎ করেই যেন একটু নরম গন্ধ। শরৎ এসেছে; বাংলার চিরচেনা ঋতুচক্রে। ঋতুর এই বদল শুধু প্রকৃতির সাজেই নয়, পোশাকেও এনে দিতে পারে নতুন রং, নতুন ছন্দ। তবে, বাংলাদেশের শরৎ আবার একেবারে নিজের মতো। ক্যালেন্ডারে শরৎ এলেও সেপ্টেম্বরের দিনে গরম ও আর্দ্রতা এখনো যথেষ্ট। তাই বিদেশি শরৎ-ফ্যাশনের ভারী পোশাক নয়, বরং আন্তর্জাতিক প্রবণতাকে দেশি আবহাওয়ার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়াই হতে পারে এবারের সাজের মূল কথা।
শরতের রং এবার পোশ
শরৎ মানেই কি শুধু বাদামি, খয়েরি আর মেরুন? এবারের আন্তর্জাতিক ফ্যাশন বলছে, উত্তরটা না। ২০২৬ সালের শরৎ-শীতের পোশাকে মাটির কাছাকাছি রঙের পাশাপাশি উজ্জ্বল লাল, বারগান্ডি, বৈদ্যুতিক নীল, রাজকীয় বেগুনি, মাখনের মতো হলুদ ও টারকোয়িজ নীলের মতো রঙও গুরুত্ব পেয়েছে। ভোগের ফ্যাশন বিশ্লেষণে বিশেষ করে বারগান্ডি, লাল, বেগুনি ও নীলকে এবারের উল্লেখযোগ্য রং হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশি পোশাকে এই রঙের ব্যবহার অবশ্য নতুন কিছু নয়। বরং আমাদের তাঁত, জামদানি, সিল্ক কিংবা সুতি শাড়িতে এসব রং বহুদিনের পরিচিত। মাটির রঙের সঙ্গে গাঢ় লাল পাড়ের শাড়ি, অলিভ সবুজ কুর্তি, মেরুন সালোয়ার-কামিজ কিংবা গাঢ় নীল পাঞ্জাবি; সবই শরতের আবহকে আপন করে নিতে পারে।
সাদা শাড়ির সঙ্গে মেরুন ব্লাউজ, অফ-হোয়াইট পাঞ্জাবির সঙ্গে গাঢ় নীল পাজামা কিংবা খয়েরি কুর্তার সঙ্গে হালকা সাদা প্যান্ট; চোখে না পড়েও যে সাজ আলাদা করে নজর কাড়ে, শরৎ যেন তারই ঋতু।
ভারী নয়, হালকা স্তরে সাজ
বিদেশে শরৎ নামলেই আলমারি থেকে বের হয় কোট, জ্যাকেট, মোটা সোয়েটার। কিন্তু, ঢাকার শরৎ এখনো এতটা শীতল নয়। ফলে শরতের আন্তর্জাতিক ‘লেয়ারিং’ বা এক পোশাকের ওপর আরেকটি পোশাক পরার প্রবণতা এখানে একটু বুদ্ধি করে ব্যবহার করতে হবে।
২০২৬ সালের শরৎ-ফ্যাশনে বিভিন্ন পোশাককে স্তরে স্তরে সাজানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ভোগের ফ্যাশন বিশ্লেষণেও পোশাকের স্তরবিন্যাসকে চলতি মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ স্টাইলিং কৌশল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুপারস্টার নিউজ/এআর