প্রধান নিউজ
দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে, দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী যে সাহাবির তিলাওয়াত শুনে অশ্রুসিক্ত হয়ে যেতেন মহানবী (সা.) ক্যাস্টর অয়েলের ৫ বিস্ময়কর ব্যবহার প্রযুক্তিনির্ভর সিনেমায় সিনথিয়া তাহসিফ হত্যা মামলা: তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে দীপ বাংলাদেশ ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মধ্যে ২০০০ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর সাইবারট্রাক উৎপাদন বন্ধের ইঙ্গিত ইলন মাস্কের যুদ্ধের শুরুর তুলনায় ইরানের সামরিক বাহিনী এখন ‘আরও শক্তিশালী’: সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ধামরাইয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা সেই প্রবীণ দম্পতির পাশে প্রশাসন ওপার থেকে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে ফ্যাসিবাদীরা: সপু
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন

যেভাবে ফেস আইডি আপনার চেহারা চেনে

প্রতিনিধির নাম : / ৩৫ Time View
প্রকাশকাল : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুপারস্টারনিউজ তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : স্মার্টফোনের দিকে তাকাতেই মুহূর্তের মধ্যে খুলে যায় স্ক্রিন। পাসওয়ার্ড বা পিন মনে রাখার প্রয়োজন নেই—শুধু মুখ দেখালেই আনলক হয়ে যায় ফোন। কিন্তু কীভাবে ফোন নিশ্চিত হয় যে স্ক্রিনের সামনে থাকা ব্যক্তিই তার প্রকৃত মালিক?

এর পেছনে কাজ করে ক্যামেরা, ইনফ্রারেড আলো এবং ত্রিমাত্রিক ফেস-রেকগনিশন প্রযুক্তির সমন্বয়। এই প্রযুক্তি শুধু মুখের ছবি দেখে পরিচয় শনাক্ত করে না, বরং মুখের গঠন ও গভীরতার বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে।

শুধু ছবি দেখে মুখ শনাক্ত করে না

ফেস আইডিকে সাধারণ সেলফি ক্যামেরার সঙ্গে তুলনা করলে ভুল হবে। উদাহরণ হিসেবে আইফোনের ফেস আইডি ব্যবস্থায় রয়েছে ট্রুডেপথ ক্যামেরা সিস্টেম। ব্যবহারকারীর মুখের ত্রিমাত্রিক কাঠামো শনাক্ত করতে এতে একাধিক প্রযুক্তি একসঙ্গে কাজ করে।

ফোনের ইনফ্রারেড ক্যামেরা মুখের তথ্য সংগ্রহ করার পাশাপাশি একটি ডট প্রজেক্টর মুখের ওপর হাজার হাজার অদৃশ্য ইনফ্রারেড বিন্দুর প্যাটার্ন ছড়িয়ে দেয়। নাক, চোখ, গাল, কপালসহ মুখের বিভিন্ন অংশে এসব বিন্দুর অবস্থান কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয় মুখের একটি গভীরতার মানচিত্র।

ফলে ফোনের কাছে শুধু একটি সমতল ছবি নয়, ব্যবহারকারীর মুখের ত্রিমাত্রিক গঠন সম্পর্কেও তথ্য থাকে।

প্রথমবার মুখ শনাক্ত করার সময় কী ঘটে?

ফেস আইডি সেটআপ করার সময় ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন দিকে মুখ ঘোরাতে বলা হয়। এ সময় ফোন মুখের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে সেগুলোর একটি গাণিতিক রূপ তৈরি করে।

এই তথ্য সরাসরি সাধারণ ছবি হিসেবে সংরক্ষণ করা হয় না। অ্যাপলের ক্ষেত্রে ফেস আইডির মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য তৈরি তথ্য ডিভাইসের সুরক্ষিত অংশে রাখা হয়। ফলে অন্য অ্যাপগুলো সাধারণভাবে এসব তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পায় না।

পরেরবার কীভাবে মুখ মেলানো হয়?

পরবর্তী সময়ে ফোনের দিকে তাকালে ট্রুডেপথ সিস্টেম আবারও মুখের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর নতুন পাওয়া তথ্যকে আগে সংরক্ষিত গাণিতিক প্রতিনিধিত্বের সঙ্গে তুলনা করা হয়।

দুই তথ্যের মধ্যে প্রয়োজনীয় মাত্রায় মিল পাওয়া গেলে ফোন ধরে নেয়, সামনে থাকা ব্যক্তিই অনুমোদিত ব্যবহারকারী। তখনই ডিভাইসটি আনলক হয়ে যায়।

এ ক্ষেত্রে শুধু চোখ, নাক কিংবা মুখের অবস্থান বিবেচনা করা হয় না। মুখের গভীরতা ও সামগ্রিক কাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণেই সাধারণ একটি ছবি দেখিয়ে ফেস আইডিকে ফাঁকি দেওয়া তুলনামূলক কঠিন।

চেহারায় পরিবর্তন এলে কী হয়?

দাড়ি রাখা, চশমা ব্যবহার, মেকআপ করা কিংবা চুলের ধরন বদলে ফেললেও অনেক ক্ষেত্রে ফেস আইডি স্বাভাবিকভাবেই কাজ করতে পারে। কারণ এই প্রযুক্তি শুধু বাহ্যিক চেহারার ওপর নির্ভর না করে মুখের সামগ্রিক গঠন বিশ্লেষণ করে।

সময় গড়ানোর সঙ্গে মুখে স্বাভাবিক পরিবর্তন এলে সিস্টেম সেই পরিবর্তনের সঙ্গে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে মানিয়ে নিতে পারে। তবে মুখে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে কিংবা কোনো কারণে ফেস আইডি ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলে ফোন পাসকোড চাইতে পারে।

অর্থাৎ, ফোন মূলত আপনার একটি ছবি মনে রেখে দেয় না। বরং মুখের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ও গভীরতার তথ্য থেকে তৈরি গাণিতিক পরিচয়ের সঙ্গে প্রতিবার নতুন করে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে দেখে, ফোনের সামনে থাকা ব্যক্তিই প্রকৃত মালিক কি না।
সুপারস্টারনিউজ/এআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category