প্রধান নিউজ
দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে, দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী যে সাহাবির তিলাওয়াত শুনে অশ্রুসিক্ত হয়ে যেতেন মহানবী (সা.) ক্যাস্টর অয়েলের ৫ বিস্ময়কর ব্যবহার প্রযুক্তিনির্ভর সিনেমায় সিনথিয়া তাহসিফ হত্যা মামলা: তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে দীপ বাংলাদেশ ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মধ্যে ২০০০ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর সাইবারট্রাক উৎপাদন বন্ধের ইঙ্গিত ইলন মাস্কের যুদ্ধের শুরুর তুলনায় ইরানের সামরিক বাহিনী এখন ‘আরও শক্তিশালী’: সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ধামরাইয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা সেই প্রবীণ দম্পতির পাশে প্রশাসন ওপার থেকে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে ফ্যাসিবাদীরা: সপু
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন

পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬ ড্রোন চালিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ল চীন

প্রতিনিধির নাম : / ৩৩ Time View
প্রকাশকাল : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

সুপারস্টারনিউজ তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : দুই দশকের বেশি সময় ধরে পানির নিচে লক্ষ্য শনাক্তকরণ, তথ্য সংগ্রহ, শব্দতরঙ্গভিত্তিক যোগাযোগ ও দৃশ্যগত প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার ফলে এ রেকর্ড অর্জন সম্ভব হয়েছে।

পানির নিচে একসঙ্গে ছুটল ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন—আর তাতেই বিশ্ব রেকর্ড গড়ল চীন। সুইমিং পুলে চালানো এক পরীক্ষায় কোনো মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই শতাধিক ড্রোনকে নির্ধারিত পথে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করে নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে চীনের একটি গবেষক দল। প্রযুক্তিটির এই সাফল্য পানির নিচে বৃহৎ পরিসরে মানবহীন যান পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে।

উত্তর-পশ্চিম পলিটেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও শিয়ান তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিসের যৌথ উদ্যোগে এ পরীক্ষা চালানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি সেপ্টেম্বরের শেষে এক বিবৃতিতে জানায়, পরীক্ষায় ‘টিএইচ-৬১৮’ নামের ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান বা ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

গত ২৯ আগস্ট ৫০ মিটার দীর্ঘ ও ২০ মিটার প্রশস্ত একটি সুইমিং পুলে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পরীক্ষাটি পরে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে রেকর্ড হিসেবে অনুমোদিত ও প্রকাশ করা হয়।

পরীক্ষায় ড্রোনগুলো ধারাবাহিকভাবে পানিতে নামানো হয়। কোনো মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই তারা ৩৪ মিনিট ধরে ৫০০ মিটার পথ অতিক্রম করে নির্ধারিত পথে সমন্বিতভাবে চলাচল করে। এ সময় ড্রোনগুলো বাস্তব সময়ের তথ্য ব্যবহার করে নিজেদের গতিপথ ঠিক রাখে।

বিশ্ববিদ্যালয়টি বলেছে, একই পরিবেশে কয়েক ডজন, এমনকি শত শত পানির নিচের যানকে দীর্ঘ সময় ধরে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও স্থিতিশীলভাবে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা পানির নিচের বুদ্ধিমান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বড় চ্যালেঞ্জ।

চীন স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে স্বয়ংক্রিয় যান এবং ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহারে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে সামরিক প্রযুক্তিতে চালক বা মানবনির্ভর প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে মানবহীন ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ায় এসব প্রযুক্তির গুরুত্বও বাড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, পরীক্ষায় ব্যবহৃত টিএইচ-৬১৮ ড্রোনগুলোর দৈর্ঘ্য ৬১ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ২০ সেন্টিমিটার। প্রতিটির ওজন ৫ দশমিক ১৪ কেজি। এগুলোর সর্বোচ্চ পাল্লা ৩০ কিলোমিটার এবং একটানা আট ঘণ্টার বেশি কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে।

ড্রোনগুলো চলাচলের জন্য মোবাইল ফোনভিত্তিক ক্যামেরা ব্যবস্থা ব্যবহার করে। নির্ধারিত পথে কোনো বাধা বা পরিবর্তন দেখা দিলে সেগুলো নিজে থেকেই গতিপথ সংশোধন করতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, পানির নিচে চলাচলে বাস্তব সময়ে যোগাযোগের জটিলতা ও পরিবেশগত নানা বাধা রয়েছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে পানির নিচে লক্ষ্য শনাক্তকরণ, তথ্য সংগ্রহ, শব্দতরঙ্গভিত্তিক যোগাযোগ ও দৃশ্যগত প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার ফলে এ রেকর্ড অর্জন সম্ভব হয়েছে।

ড্রোন সরবরাহকারী শিয়ান তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিস জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান এখন সমুদ্রতলের বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি ও তেল-গ্যাসের পাইপলাইন পরিদর্শনসহ গবেষণা ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
সুপারস্টারনিউজ/এআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category