প্রধান নিউজ
দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে, দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী যে সাহাবির তিলাওয়াত শুনে অশ্রুসিক্ত হয়ে যেতেন মহানবী (সা.) ক্যাস্টর অয়েলের ৫ বিস্ময়কর ব্যবহার প্রযুক্তিনির্ভর সিনেমায় সিনথিয়া তাহসিফ হত্যা মামলা: তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে দীপ বাংলাদেশ ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মধ্যে ২০০০ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর সাইবারট্রাক উৎপাদন বন্ধের ইঙ্গিত ইলন মাস্কের যুদ্ধের শুরুর তুলনায় ইরানের সামরিক বাহিনী এখন ‘আরও শক্তিশালী’: সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ধামরাইয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা সেই প্রবীণ দম্পতির পাশে প্রশাসন ওপার থেকে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে ফ্যাসিবাদীরা: সপু
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন

দেশ-বিদেশে পাটের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার

প্রতিনিধির নাম : / ৩৪ Time View
প্রকাশকাল : শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬

সুপারস্টারনিউজ অর্থনীতি ডেস্ক : দেশে উৎপাদিত পাটকে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপান্তরের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্ব আয় বাড়ানোর কাজ করছে সরকার। পাশাপাশি রেশম, তাঁত ও পাটপণ্যসহ তৈরি পোশাকের বাইরের সম্ভাবনাময় খাতগুলোর বিকাশেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে জেডিপিসি এবং পাটখাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে।

আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) প্রাঙ্গণে ছয় দিনব্যাপী ‘বহুমুখী পাটপণ্য মেলা’ ও নতুন বিক্রয় কেন্দ্র ‘জেপিডিসি এক্সপ্রেস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, রপ্তানিতে মূল্য সংযোজন না থাকলেও পাটকে পর্যায়ক্রমে স্লাইভার, প্যাকেজিং এবং ব্লেন্ডেড ফাইবারসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তরের মাধ্যমে কাঁচা পাটের মূল্য কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব।

বাণিজ্য মন্ত্রী আরও জানান, গত বছর বাজারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতি টন কাঁচা পাটের দাম ছিল প্রায় দেড় লাখ টাকা বা প্রায় ১২শ’ মার্কিন ডলার। একই পরিমাণ পাট প্যাকেজিং পণ্যে রূপান্তর করা হলে এর মূল্য প্রায় ২৪শ’ থেকে ২৫শ’ মার্কিন ডলারে উন্নীত হতে পারে। আবার পাটের সঙ্গে কটন বা অন্যান্য ফাইবার মিশিয়ে ব্লেন্ডেড ফাইবারসহ উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন করা গেলে প্রতি টনে প্রায় ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্য অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশে যে পরিমাণ পাট উৎপাদিত হয়, তার সর্বোচ্চ অংশকে মূল্য সংযোজিত পণ্যে রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পাট থেকে বৈদেশিক মুদ্রা ও রাজস্বের সর্বোচ্চ আহরণ সম্ভব।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রেশম, তাঁত ও পাটজাত পণ্যের বিকাশে সহায়ক কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রচার ও বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করতে জেডিপিসিতে স্থায়ী শোরুম চালু করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রদর্শনী ও মেলা আয়োজনের মাধ্যমে দেশীয় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের কাছেও এসব পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোই সরকারের উদ্দেশ্য।

মন্ত্রী জানান, এসব পণ্যের মধ্যে বিপুলসংখ্যক হাতে তৈরি পণ্য রয়েছে। সেগুলো মূলত ক্ষুদ্র শিল্পের উৎপাদন হিসেবে বাজারে আসছে। সরকার আগামী দিনে এসব খাতকে আরও বিকশিত পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায় এবং সে লক্ষ্যেই নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, জেডিপিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহিদ হোসেনসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেলার মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রচার বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং পলিথিনের ব্যবহার থেকে মানুষকে নিরুৎসাহিত করাই অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি দেশের জিআই পণ্য, বহুমুখী পাটপণ্য, রাজশাহী সিল্ক এবং তাঁতসহ বস্ত্র খাতের বিভিন্ন পণ্য জনগণের কাছে আরও পরিচিত করে সেগুলোর ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

তিনি জানান, জেডিপিসির উদ্যোগে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের মেলা আয়োজন করা হয়। আর ‘জেডিপিসি এক্সপ্রেস’ স্থায়ী বিক্রয় ও প্রদর্শন কেন্দ্র হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এখানে বহুমুখী পাটপণ্যের পাশাপাশি তাঁত ও রেশমের বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় করা হবে। ভবিষ্যতে দেশের আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ ধরনের শোরুম স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনেও দেশীয় পণ্যের শোরুম বা ডিসপ্লে সেন্টার স্থাপন করা হবে। উদ্যোক্তা এবং গণমাধ্যমের সহযোগিতায় দেশীয় পণ্যকে বিশ্ববাজারে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে সরকার কাজ করতে চায়।

জেডিপিসি প্রাঙ্গনে আয়োজিত ছয় দিনের বহুমুখী পাটপণ্য মেলা ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

অন্যদিকে, নতুন চালু হওয়া বিক্রয় কেন্দ্র ‘জেডিপিসি এক্সপ্রেস’ প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সপ্তাহজুড়েই খোলা থাকবে।
সুপারস্টারনিউজ/এআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category