প্রধান নিউজ
দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে, দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী যে সাহাবির তিলাওয়াত শুনে অশ্রুসিক্ত হয়ে যেতেন মহানবী (সা.) ক্যাস্টর অয়েলের ৫ বিস্ময়কর ব্যবহার প্রযুক্তিনির্ভর সিনেমায় সিনথিয়া তাহসিফ হত্যা মামলা: তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে দীপ বাংলাদেশ ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মধ্যে ২০০০ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর সাইবারট্রাক উৎপাদন বন্ধের ইঙ্গিত ইলন মাস্কের যুদ্ধের শুরুর তুলনায় ইরানের সামরিক বাহিনী এখন ‘আরও শক্তিশালী’: সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ধামরাইয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা সেই প্রবীণ দম্পতির পাশে প্রশাসন ওপার থেকে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে ফ্যাসিবাদীরা: সপু
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন

‘জুমা মোবারক’ বলে শুভেচ্ছা বিনিময় প্রসঙ্গে ইসলাম কী বলে

প্রতিনিধির নাম : / ৩৪ Time View
প্রকাশকাল : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

সুপারস্টার নিউজ ধর্ম ডেস্ক : জুমার দিন মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ এই দিনকে আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষভাবে নির্ধারণ করেছেন।

হাদিসে জুমার দিনকে মুসলমানদের ঈদের দিন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ দিনে গোসল করা, পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং মিসওয়াক করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের জন্য জুমার দিনকে ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং তোমাদের কেউ জুমায় উপস্থিত হতে চাইলে সে যেন গোসল করে নেয়।

সুগন্ধি থাকলে তা ব্যবহার করে এবং অবশ্যই মিসওয়াক করে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০৯৮)

জুমার দিনের এই বিশেষ মর্যাদাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একে অপরকে ‘জুমা মোবারক’ বলে শুভেচ্ছা জানানোর প্রচলন বেশ লক্ষণীয়। প্রতি শুক্রবারই অনেকে এই বাক্য ব্যবহার করে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের শুভেচ্ছা জানান। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ‘জুমা মোবারক’ বলে শুভেচ্ছা বিনিময় কি সুন্নাহসম্মত কোনো আমল, নাকি নিছক প্রচলিত একটি রীতি?

‘জুমা মোবারক’ কথাটির অর্থ হলো—জুমা বরকতময় হোক।

অর্থগতভাবে এটি একটি শুভকামনা বা দোয়া। কেউ যদি সাধারণ দোয়া ও শুভকামনার উদ্দেশ্যে কথাটি বলেন, কিন্তু একে সুন্নাহ, নির্দিষ্ট সওয়াবের আমল কিংবা শরিয়তনির্ধারিত নিয়ম মনে না করেন, তাহলে শুধু এই বাক্য ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই। তবে প্রতি শুক্রবার ‘জুমা মোবারক’ বলাকে বিশেষ ধর্মীয় রীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।

ইসলামে মুসলমানদের পারস্পরিক অভিবাদনের সর্বোত্তম ও সুপ্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি হলো সালাম দেওয়া। ‘আসসালামু আলাইকুম’ অর্থ—আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

এটি শুধু সৌজন্য প্রকাশের বাক্য নয়; বরং এর মাধ্যমে অপরের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করা হয়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘আর যখন তোমাদের সালাম দেওয়া হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম সালাম দাও অথবা অনুরূপ জবাব দাও।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৮৬)

ইসলামে জুমার দিনের মর্যাদা ও ফজিলত বিশেষভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত। তবে এই দিনকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্টভাবে ‘জুমা মোবারক’ বলার কোনো বিশেষ নির্দেশনা রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে প্রমাণিত নয়। সাহাবায়ে কেরাম ও তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের নিয়মিত আমল হিসেবেও এটি সুপ্রতিষ্ঠিত নয়।

তাই ‘জুমা মোবারক’ বলাকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ তথা বিশেষ সওয়াবের আমল কিংবা প্রতি শুক্রবারের আবশ্যকীয় রীতি হিসেবে প্রচার করা বৈধ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু নতুনভাবে সংযোজন করে, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৬৯৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৭১৮)

জুমার দিনের মর্যাদা শুধুমাত্র একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এ দিনের প্রকৃত গুরুত্ব হলো জুমার নামাজ আদায় করা, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা, বেশি বেশি দোয়া ও জিকির করা, কোরআন তিলাওয়াত করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হওয়া।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন, কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক দিন এবং জুমার দিনের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
সুপারস্টার নিউজ/এআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category