প্রধান নিউজ
দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে, দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী যে সাহাবির তিলাওয়াত শুনে অশ্রুসিক্ত হয়ে যেতেন মহানবী (সা.) ক্যাস্টর অয়েলের ৫ বিস্ময়কর ব্যবহার প্রযুক্তিনির্ভর সিনেমায় সিনথিয়া তাহসিফ হত্যা মামলা: তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে দীপ বাংলাদেশ ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মধ্যে ২০০০ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর সাইবারট্রাক উৎপাদন বন্ধের ইঙ্গিত ইলন মাস্কের যুদ্ধের শুরুর তুলনায় ইরানের সামরিক বাহিনী এখন ‘আরও শক্তিশালী’: সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ধামরাইয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা সেই প্রবীণ দম্পতির পাশে প্রশাসন ওপার থেকে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে ফ্যাসিবাদীরা: সপু
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন

প্রকৌশল শিক্ষা ছাড়াই উড়ন্ত গাড়ি বানালেন তরুণ

প্রতিনিধির নাম : / ২৬ Time View
প্রকাশকাল : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

সুপারস্টারনিউজ তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : প্রকৌশল শিক্ষা ছাড়াই বৈদ্যুতিক উড়ন্ত গাড়ির প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন উত্তরাখণ্ডের আলমোড়া জেলার রবি তামতা।

আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞান বা প্রকৌশল শিক্ষা ছাড়াই একটি বৈদ্যুতিক উড়ন্ত গাড়ির প্রোটোটাইপ তৈরি করেছেন উত্তরাখণ্ডের আলমোড়া জেলার রবি তামতা। মানবিক বিভাগে স্নাতক করা তামতা ১৩ বছর ধরে অনলাইনে দেখে এবং হাতে-কলমে পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তুলেছেন।

তার তৈরি একক আসনের যানটির নাম হাপিডা স্কাইনেক্স। আগস্টে এটির পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়েছে। ইন্টারনেট, বছরের পর বছর পরীক্ষানিরীক্ষা ও পরিবারের সহায়তায় তিনি নিজের জ্ঞান গড়েছেন।

ভাবনা থেকে উড়ন্ত প্রোটোটাইপ

তামতা বেড়ে উঠেছেন জাগেশ্বর ধামের কাছে কাফলিখান এলাকায়। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কে হাসপাতালে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগার অভিজ্ঞতা থেকেই ব্যক্তিগত আকাশযানের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়।

২০১৫ সালে তিনি উড়ন্ত গাড়ি তৈরির স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। নিজের উদ্যোগ হাপিডা স্কাই প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে সেই ভাবনা বাস্তব রূপ দিয়েছেন। যানটি রানওয়ে ছাড়াই খাড়াভাবে ওঠানামা করতে পারে। এতে একাধিক বৈদ্যুতিক মোটর ও প্রপেলার ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে মাল্টিরোটর ড্রোনের মতো প্রযুক্তি কাজে লাগানো হয়েছে।

প্রোটোটাইপটির কাঠামো হালকা। এতে ককপিট ও স্বচ্ছ ক্যানোপি আছে। এটি ব্যাটারিচালিত, ফলে বিমানের জ্বালানি বা ইথানলের প্রয়োজন হয় না। তবে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন একটি প্রাথমিক মাইলফলক মাত্র। যানটি যাত্রী বহন বা বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের জন্য প্রস্তুত কি না, তা এখনো যাচাই করা হয়নি।

ইন্টারনেটই ছিল শিক্ষক

গ্রামের জুনিয়র হাইস্কুলে পড়াশোনা করেছেন তামতা। পরে নৈনিতাল ক্যাম্পাস থেকে মানবিক বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তার বাবা হরিশ রাম পেশায় মেকানিক। আনুষ্ঠানিক প্রকৌশল প্রশিক্ষণ বা বিশেষায়িত গবেষণাগার ছাড়াই তিনি অনলাইনের তথ্য ও বারবার পরীক্ষানিরীক্ষার ওপর নির্ভর করেছেন। তবে উড়ন্ত যানের নকশা, ব্যাটারির কার্যকারিতা, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে জটিল প্রশ্ন থেকেই যায়। এর প্রতিটির জন্য কঠোর পরীক্ষা ও কারিগরি যাচাই প্রয়োজন।

আগের উদ্ভাবন

হাপিডা স্কাইনেক্স দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে তামতার প্রথম উদ্যোগ নয়। এর আগে তিনি মোবাইল ফোন চার্জ করা যায় এমন জুতা, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য স্মার্ট হাঁটার লাঠি, বাঁশ চেরার যন্ত্র ও অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া স্টিক মোবাইল চার্জার এবং বন বিভাগের জন্য একটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রও বানিয়েছেন তিনি।

উড়ন্ত যানটির উদ্দেশ্য দুর্গম ভূখণ্ডে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াত দ্রুততর করা। প্রত্যন্ত এলাকা ও চিকিৎসা জরুরি অবস্থায় এটি কাজে লাগতে পারে। তবে বাস্তব ব্যবহারের আগে আরও পরীক্ষা এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশনের (ডিজিসিএ) অনুমতিসহ নিয়ন্ত্রক অনুমোদন প্রয়োজন।
সুপারস্টারনিউজ/এআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category