সুপারস্টারনিউজ প্রতিবেদক : ক্লিনিক্যাল গবেষণার পরিধি বাড়ানো, গবেষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণার বৈজ্ঞানিক ও নৈতিক মান বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ‘বাংলাদেশ একাডেমি অব ক্লিনিক্যাল রিসার্চ সোসাইটি’। সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৬০-এর অধীনে সংগঠনটির নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর ২০২৬ নিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়।
সোসাইটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এটি একটি বেসরকারি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণভিত্তিক সংগঠন। চিকিৎসক, শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং স্বাস্থ্য ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, সেমিনার ও সম্মেলন আয়োজনের পাশাপাশি গবেষণায় সহযোগিতার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গবেষণা পরিকল্পনা, research methodology, তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা, পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ, scientific writing ও publication এবং গবেষণার নৈতিকতা, এসব বিষয়ে গবেষকদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিশেষ করে তরুণ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য-গবেষকদের জন্য প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা আছে। গবেষণার প্রশ্ন কীভাবে তৈরি করতে হয়, কোন প্রশ্নের জন্য কোন ধরনের study design উপযুক্ত এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করতে হয়, এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বক্তৃতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের বদলে practical ও hands-on training-এর ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণও এ কার্যক্রমের অংশ। descriptive statistics থেকে শুরু করে inferential statistics, regression analysis, survival analysis ও longitudinal data analysis এবং গবেষণার ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত statistical method বেছে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোসাইটির কর্মকর্তারা বলেন, গবেষণার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি গুণগত মান বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মতে, গবেষণার প্রশ্ন, পদ্ধতি, তথ্যের মান, বিশ্লেষণ ও ফলাফল উপস্থাপনের স্বচ্ছতা মিলিয়ে গবেষণার মান নির্ধারিত হয়। সোসাইটির লক্ষ্য, একজন গবেষক যেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা পরিচালনার মৌলিক দক্ষতা অর্জন করেন।
গবেষণার নৈতিকতা
মানুষকে নিয়ে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা, গোপনীয়তা ও informed consent নিশ্চিত করা ক্লিনিক্যাল গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। World Medical Association প্রণীত Declaration of Helsinki এ বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক নীতিমালা। দেশে বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল (BMRC) মানব-অংশগ্রহণকারী গবেষণার নৈতিকতা ও ethical reviewর জন্য নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।
সোসাইটির গঠনতন্ত্রে IRB বা Institutional Ethics Committee গঠন ও পরিচালনার উদ্যোগের কথা উল্লেখ আছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন, জাতীয় নির্দেশিকা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ করা হবে।
সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ শাহ মোঃ আহসান শহীদ। তিনি বলেন, গবেষণার গুণগত মান, গবেষকদের methodological training ও research ethics আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডাঃ এ. এন. এম মোজাম্মেল হক সংগঠনের প্রশাসনিক ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছেন। তিঃনি জানান, গবেষকদের জন্য structured training programme, workshop ও research-support activities চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ মোঃ হাসিবুল হাসান, প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী সদস্য, বলেন, গবেষণাকে শুধু একাডেমিক প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ, নিরাপদ খাদ্য, পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ নিয়ে evidence-based awareness কর্মসূচি পরিচালনার কথাও বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি নীতিনির্ধারকদের জন্য গবেষণাভিত্তিক তথ্য তৈরি করাও সংগঠনের একটি লক্ষ্য।
গঠনতন্ত্রে দেশি-বিদেশি শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ তৈরির কথা বলা হয়েছে। যৌথ গবেষণা, গবেষক প্রশিক্ষণ, scientific conference ও collaborative publication-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের গবেষকদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা আছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, research ethics ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা মানা হবে।
সোসাইটির পরিকল্পনায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক conference, symposium, seminar, workshop ও webinar আয়োজনের কথাও রয়েছে। সেখানে গবেষকেরা নিজেদের গবেষণার ফল উপস্থাপন করতে পারবেন। তরুণ গবেষকদের জন্য poster presentation, oral presentation ও research competitionর মতো কার্যক্রম চালুর সুযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোসাইটির কর্মকর্তারা জানান, তাঁদের লক্ষ্য এমন একটি গবেষণা-পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে গবেষকেরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে কাজ করতে পারেন।
সুপারস্টারনিউজ/এআর