প্রধান নিউজ
দেশে আবারও ষড়যন্ত্র হচ্ছে, দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী যে সাহাবির তিলাওয়াত শুনে অশ্রুসিক্ত হয়ে যেতেন মহানবী (সা.) ক্যাস্টর অয়েলের ৫ বিস্ময়কর ব্যবহার প্রযুক্তিনির্ভর সিনেমায় সিনথিয়া তাহসিফ হত্যা মামলা: তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে দীপ বাংলাদেশ ব্যাংক ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মধ্যে ২০০০ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর সাইবারট্রাক উৎপাদন বন্ধের ইঙ্গিত ইলন মাস্কের যুদ্ধের শুরুর তুলনায় ইরানের সামরিক বাহিনী এখন ‘আরও শক্তিশালী’: সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ধামরাইয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা সেই প্রবীণ দম্পতির পাশে প্রশাসন ওপার থেকে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে ফ্যাসিবাদীরা: সপু
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৮ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে বৈদ্যুতিক ফেরির নতুন যুগ, উড়বে পানিতে

প্রতিনিধির নাম : / ২২ Time View
প্রকাশকাল : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

সুপারস্টারনিউজ তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : পানির ওপর দিয়ে ছুটবে, আবার বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে পানির ওপর ভেসে উড়তেও পারবে—এমন বৈদ্যুতিক ফেরি নিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। ডিজেলচালিত ফেরির বিকল্প হিসেবে ব্যাটারিচালিত নৌযান চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি খরচ কমতে পারে, অন্যদিকে কমবে পরিবেশদূষণও।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্ক হারবারে স্ট্যাচু অব লিবার্টির পাশ দিয়ে চলার সময় এমনই একটি বৈদ্যুতিক নৌযানে চড়েছিলেন জলযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভেসেভের প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা এরিক লাকম্যান। নৌযানটি কাছের একটি পর্যটকবাহী ফেরির যাত্রীদেরও কৌতূহলের কারণ হয়ে ওঠে। ভেসেভের তৈরি এসব নৌযানে ব্যবহার করা হয়েছে হাইড্রোফয়েল প্রযুক্তি। এতে নৌযানের তলায় থাকা ডানার মতো বিশেষ অংশ পানির নিচে থেকে গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল কাঠামোকে পানির ওপরে তুলে ধরে। ফলে পানির সঙ্গে ঘর্ষণ ও বাধা কমে যায়। নৌযানটি তখন অনেকটা পানির ওপর ভেসে চলার মতো গতিতে এগিয়ে যায়।

এরিক লাকম্যানের ভাষ্য, গতি বাড়ানোর পর নৌযানটির মূল কাঠামো পানির প্রায় দেড় ফুট ওপরে উঠে আসে। এতে ঢেউয়ের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে চলার বদলে যাত্রা অনেক বেশি মসৃণ হয়ে ওঠে।

বৈদ্যুতিক নৌযান তৈরির অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো ব্যাটারির ওজন। ব্যাটারি ভারী হওয়ায় নৌযানের ওজন বেড়ে যায়। আবার পানির বাধা অতিক্রম করতেও প্রচুর শক্তি প্রয়োজন হয়। ফলে বৈদ্যুতিক নৌযানের চলার দূরত্ব ও কার্যকারিতা সীমিত হয়ে পড়ে।

হাইড্রোফয়েল প্রযুক্তি এ সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে। নৌযানের বড় অংশ পানির ওপরে উঠে থাকায় পানির সঙ্গে ঘর্ষণ কম হয়। এতে কম শক্তি ব্যবহার করে বেশি গতিতে চলা সম্ভব হয়।

ভেসেভের দাবি, তাদের নকশা পানির বাধা প্রায় ৬৬ শতাংশ কমাতে পারে। এতে তুলনামূলক ছোট ব্যাটারি ব্যবহার করেও নৌযান চালানো সম্ভব হয়। ফলে ব্যাটারির ওজন ও খরচ কমে আসে।

তবে শুধু ডিজেল ইঞ্জিনের বদলে বৈদ্যুতিক মোটর বসালেই একটি নৌযান পুরোপুরি কার্যকর হয়ে ওঠে না। কত দূর চলতে হবে, কতজন যাত্রী বহন করতে হবে, কত দ্রুত চার্জ দেওয়া সম্ভব এবং নৌযান কতটা ওজন বহন করতে পারবে— এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হয়।

ভেসেভ বর্তমানে নিউজিল্যান্ডে যাত্রী পরিবহনসেবা পরিচালনা করছে। অস্ট্রেলিয়াতেও কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। যুক্তরাষ্ট্রে তাদের প্রথম সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে লেক তাহো এলাকায়।

এরিক লাকম্যান মনে করেন, ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক নৌযান শুধু বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে নয়, নিয়মিত গণপরিবহনের অংশ হয়ে উঠতে পারে। পানিপথে এসব নৌযান বাস, পাতালরেল কিংবা ট্যাক্সির মতোই সাধারণ পরিবহনব্যবস্থায় জায়গা করে নিতে পারে বলে তার প্রত্যাশা।

পানিপথ ব্যবহার করে যানজটপূর্ণ সড়কে অতিরিক্ত গাড়ি না বাড়িয়েও যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব। পাশাপাশি বিদ্যুৎচালিত নৌযান ডিজেল পোড়ানো ফেরির ধোঁয়া ও দূষণ কমাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে পরিবহন খাত গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের সবচেয়ে বড় উৎস। সড়কযানের পাশাপাশি জাহাজ ও অন্যান্য জলযানও জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ায়। ফলে ডিজেলচালিত ফেরির পরিবর্তে বৈদ্যুতিক নৌযান চালু হলে ব্যস্ত নৌবন্দর এলাকার বায়ুর মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে সুইডিশ প্রতিষ্ঠান ক্যান্ডেলাও। স্টকহোমে তাদের তৈরি বৈদ্যুতিক হাইড্রোফয়েল ফেরিতে ইতোমধ্যে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রচলিত একই ধরনের নৌযানের তুলনায় তাদের প্রযুক্তিতে শক্তি খরচ সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। উপকূলীয় পরিবহনসেবার জন্য নরওয়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ২০টি বৈদ্যুতিক হাইড্রোফয়েল নৌযান নেওয়ার আদেশ দিয়েছে।

সান ফ্রান্সিসকোতেও চালু হচ্ছে বৈদ্যুতিক ফেরি

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে বছরে প্রায় ৩৫ লাখ যাত্রী পরিবহন করে শহরটির সবচেয়ে বড় ফেরি পরিচালনাকারী সংস্থা। সংস্থাটির প্রধান সীমাস মারফি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য বহু মানুষ ফেরির ওপর নির্ভর করেন।

তবে বর্তমানে সংস্থাটির বহরে থাকা ১৮টি ফেরিই জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত। এ পরিস্থিতি বদলাতে আগামী দুই বছরে চারটি ব্যাটারিচালিত ফেরি যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে। এ জন্য প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বৈদ্যুতিক রূপান্তর প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ফেরিঘাটে চার্জ দেওয়ার অবকাঠামোও তৈরি করা হবে।

নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে একের পর এক যাত্রা সম্পন্ন করতে হয় বলে ফেরির ব্যাটারিতে পর্যাপ্ত শক্তি থাকা জরুরি। পাশাপাশি ঘাটে অবস্থানের সময় দ্রুত চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য নৌযানের চলার দূরত্ব, যাত্রার সময়সূচি ও চার্জিং সক্ষমতার মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।

সান ফ্রান্সিসকোর নতুন ফেরিগুলোতে আপাতত হাইড্রোফয়েল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে সংস্থাটির দাবি, এগুলো চালু হলে যুক্তরাষ্ট্রে তারাই হবে প্রথম সংস্থা, যারা উচ্চগতির সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক ফেরি পরিচালনা করবে।

শুরুতে ব্যয় বেশি, দীর্ঘ মেয়াদে সাশ্রয়ের আশা

বৈদ্যুতিক ফেরি চালুর ক্ষেত্রে বড় বাধা প্রাথমিক বিনিয়োগ। নতুন নৌযান কেনার পাশাপাশি চার্জিং অবকাঠামো নির্মাণেও বিপুল অর্থ প্রয়োজন। তবে বৈদ্যুতিক মোটর সাধারণত ডিজেল ইঞ্জিনের তুলনায় বেশি দক্ষ। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমতে পারে।

সীমাস মারফির মতে, শুরুতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে হলেও সময়ের সঙ্গে পরিচালন ব্যয় কমে আসবে। ডিজেলের বাড়তি দাম এবং ব্যাটারি প্রযুক্তির উন্নতি বৈদ্যুতিক ফেরির পক্ষে অর্থনৈতিক যুক্তি আরও শক্তিশালী করেছে।

তবে সব নৌপথের জন্য বৈদ্যুতিক ফেরি উপযোগী নয়। দীর্ঘ দূরত্ব, ব্যস্ত সময়সূচি, ব্যাটারির ওজন ও দাম এবং চার্জ দেওয়ার সীমিত সুযোগ— এসব বিষয় রূপান্তরের পথে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সুপারস্টারনিউজ/এআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category