সুপারস্টারনিউজ প্রতিবেদক : ভোরের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয় দিনের কর্মব্যস্ততা। ফাঁকা রাস্তায় ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে যানবাহনের চলাচল। এরই মধ্যে কাওয়াদিঘী হাওরপাড়ের প্রান্তিক জেলেরা ছোট ছোট পাত্রে দেশীয় প্রজাতির মলা, পুঁটি, কৈ, ভেদা, শিং ও টেংরাসহ বিভিন্ন ধরনের তাজা মাছ নিয়ে বসেন ছোট্ট এক হাটে।
প্রতিদিন এমন দৃশ্য দেখা যায় মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা পরিষদের সামনে। সকালে বসা এই ছোট মাছের হাটে মাছের পাশাপাশি পাওয়া যায় টাটকা শাকসবজিও। স্থানীয়রা ভিড় করেন কাওয়াদিঘী হাওরের দেশীয় প্রজাতির তাজা মাছ ও সবজি কিনতে। মাত্র ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যেই এখান থেকে অল্প পরিমাণে মাছ ও সবজি কিনে সকালের চাহিদা মেটান ক্রেতারা।
সকাল ৭টায় শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে এই হাট। স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন পরিবেশ চলতি অক্টোবর মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
৫ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় মাছ বিক্রেতা সাইফুর রহমানের সঙ্গে। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, “হাওরে এখন ভাসান পানি। এ সময় দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ ব্যাপক হারে ধরা পড়ছে। আমরা ৫-৭ জন মিলে লাভের আশায় মাছ নিয়ে এখানে আসি। ছোট পরিসরে হলেও একটা মাছের হাট জমে উঠেছে। সকালে স্থানীয়রা প্রাকৃতিক ও সুস্বাদু ছোট মাছের চাহিদা পূরণ করতে এখানে কেনাকাটা করেন।”
ক্রেতা আহমদ মিয়া বলেন, “১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যেই সুস্বাদু প্রাকৃতিক মাছ কিনে চাহিদা পূরণ করা যায়। তাই সকালে এখানে মাছ কিনতে আসি।”
প্রান্তিক জেলে আব্দুল আলী, শাহিন ও জায়েদ মিয়া বলেন, “হাওরে এখন প্রচুর প্রাকৃতিক মাছ ধরা পড়ছে। আমরা গত এক মাস ধরে এখানে মাছ বিক্রি করে আসছি। কয়েক দিনের বেচাকেনা ভালো হওয়ায় উপজেলা পরিষদের সামনে ছোট হাটের রূপ নিয়েছে জায়গাটি। কয়েকজন বিক্রেতা টাটকা শাকসবজিও নিয়ে আসেন। তারাও ভালো বেচাকেনা করেন।”
মাছ কিনতে আসা সুনু মিয়া ও অর্জুন দেব বলেন, “সকালের এই ছোট হাটে কেনাকাটা করতে ভালো লাগে। অল্প টাকায় তাজা হাওরের সুস্বাদু মাছ ও সবজি পাওয়া যায়। এই বাজারটি স্থায়ী হয়ে গেলে স্থানীয় ক্রেতাদের জন্য খুবই ভালো হবে।”
রাজনগর উপজেলা পরিষদের সামনের ব্যবসায়ী বাবলু আহমদ বলেন, “সকাল ৭টা থেকেই এখানে ছোট একটি হাট জমে ওঠে। সুস্বাদু হাওরের প্রাকৃতিক মাছ পাওয়া যাওয়ায় আমরা আনন্দিত। তবে তুলনামূলকভাবে দাম একটু বেশি।”
রাজনগর বাজার কমিটির কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহিদ বলেন, “রাজনগর উপজেলা পরিষদের সামনে কাওয়াদিঘী হাওরের সুস্বাদু ও তাজা মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারছেন। নিয়মিত বাজার বসলে আমরা তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।”
সুপারস্টারনিউজ/এআর