বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন

নারায়ণগঞ্জে ধর্মান্তরিত বিল্লালকে ইসলামি রীতিতে দাফনের নির্দেশ

প্রতিনিধির নাম : / ১৯ Time View
প্রকাশকাল : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুপারস্টারনিউজ আইন-আদালত ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জে সনাতন ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করা বিল্লালকে ইসলামি রীতিতে দাফনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দাফনের জন্য বিল্লালের মরদেহ তার স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মুহাম্মদ ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জুয়েল আজাদ। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এর আগে মৃত্যুর পর ওই যুবকের সনাতন ধর্মাবলম্বী বাবা হিন্দুরীতি অনুযায়ী ছেলের সৎকার করতে চাইলেও তার স্ত্রী, মা, ভাই ও বোন ইসলামি রীতি অনুযায়ী দাফনের দাবি তোলেন। এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে বিল্লালের স্ত্রী হাইকোর্টে রিট মামলা করেন।

রিটকারীর আইনজীবী জুয়েল আজাদ বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর শুভ ওরফে বিল্লাল হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়।

তিনি বলেন, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের সময় বিল্লালের সনাতন ধর্মাবলম্বী বাবা হিন্দুরীতি অনুযায়ী ছেলের সৎকারের দাবি করেন। অন্যদিকে বিল্লালের মা, ভাই, বোন ও স্ত্রী জানান, তারা ২০০৩ সালে হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তারা মুসলিম হিসেবে জীবনযাপন করছেন। তাই বিল্লালকে মুসলিম শরিয়া অনুযায়ী দাফন করতে হবে।

রিটে বলা হয়, ২০০৩ সালের ২৬ জুন নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে করা এফিডেভিটে জন্মগতভাবে সনাতন ধর্মের অনুসারী শুভ, তার মা পার্বতী রাণী দাস ও ভাই সজীব চন্দ্র দাস ইসলাম গ্রহণ করেন। পরে শুভর নাম রাখা হয় বিল্লাল। তিনি মাদরাসায় পড়াশোনা করেন।

পরবর্তীসময় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বাসিন্দা আব্দুল মান্নানের মেয়ে জ্যোতিকে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে করেন বিল্লাল। তাদের দুই বছর বয়সী একটি সন্তানও রয়েছে। বিল্লালের মৃত্যুর পর তার মরদেহ দাফন নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে স্ত্রী জ্যোতি ইসলামি রীতিতে দাফনের জন্য প্রথমে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন।

ওই আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়ায় পরে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি। আইনি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত বিল্লালের মরদেহ পুলিশের তত্ত্বাবধানে হিমঘরে রেখেছিল।

রিটে আইন মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সদর থানার ওসিকে বিবাদী করা হয়। মুসলিম আইন ও সাংবিধানিক অধিকারের কথা উল্লেখ করে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বিল্লালের মরদেহ দাফনের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

একই সঙ্গে আবেদন করা হয় হিমঘরে থাকা মরদেহটি সনাতন ধর্মাবলম্বী বাবার কাছে হস্তান্তর না করে আইনানুগ স্ত্রী হিসেবে রিটকারীকে দেয়ার।

অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী কোনো মুসলিম নারী মুসলিম পুরুষ ছাড়া অন্য ধর্মের কাউকে বিয়ে করতে পারেন না। মৃত ব্যক্তিকে মুসলমান হিসেবে গণ্য না করা হলে তার বিয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এতে তাদের দুই বছর বয়সী সন্তানের পিতৃত্ব ও পরিচয় নিয়েও সংকট তৈরি হতে পারে।

শুনানির সময় বিল্লালের ভাই সজীব আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, তারা দুই ভাই মাদরাসায় লেখাপড়া করেছেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল তাকে কোরআনের একটি সূরা পাঠ করতে বলেন। তিনি সূরা ইখলাস পাঠ করে শোনান।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিল্লালের মরদেহ তার স্ত্রী জ্যোতির কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন বলে তথ্য দেন রিটকারীর আইনজীবী জুয়েল আজাদ।
সুপারস্টারনিউজ/এআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category