সুপারস্টার নিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইয়েমেনে সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের লড়াই আবারো তীব্র হয়ে উঠেছে। ইয়েমেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা রাজধানী সানাসহ হুথি নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন অঞ্চলে ২৫৭টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এতে অন্তত ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে সেনাবাহিনী।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নুজাইলি জানান, হুথিদের অবস্থান, চলাচল ও সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে সেনাবাহিনী ‘২৫৭টি নির্ভুল হামলা’ চালিয়েছে। এসব অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আর্টিলারি, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে।
আল-নাজিলি বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এসব অভিযানে অন্তত ৭০০ হুথি বিদ্রোহী নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে ‘গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সামরিক স্থাপনা’ ধ্বংস হয়েছে।
সামরিক মুখপাত্র জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় হারাদ ও উপকূল থেকে শুরু করে কিতাফ, আল-জাওফ, মারিব, আল-বায়দা, লাহিজ, সানা এবং সাদা- সব রণাঙ্গনেই এই অভিযানগুলো চালানো হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সামরিক তৎপরতা ছিল তাইজকে ঘিরে।
এর আগে গত শুক্রবার আল-নাজিলি জানিয়েছিলেন, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি সরকারি বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় হুথিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০টি সামরিক অভিযান চালিয়ে ১৫৪০ জন হুতি যোদ্ধাকে হত্যা বা আহত করেছে।
তিনি জানান, অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তায়িজ প্রদেশে। এখানে সরকারি বাহিনী হুথিদের অগ্রযাত্রা রুখে দিয়েছে।
আল-জাজিরা জানিয়েছে, সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা তায়িজ শহর নতুন করে শুরু হওয়া লড়াইয়ের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এ লড়াইয়ে সরকারি বাহিনীগুলোতে হওয়া হতাহতের কথা নাজিলি উল্লেখ করেননি।
তায়িজ থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শহরটির চারপাশের কয়েকটি এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে আর সবচেয়ে তীব্রতম লড়াই চলছে পশ্চিমাংশের শহরতলিতে।
ইয়েমেনজুড়ে তীব্র লড়াইয়ের মধ্যেই এই ঘোষণা এল। এর আগে গত বুধবার তিনটি রণাঙ্গনে ৪৬৮টি অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছিল সেনাবাহিনী, যাতে শত শত হুথি হতাহত হয়েছিল।
২০২২ সালে ইয়েমেন সরকার ও হুথিদের মধ্যে হওয়া একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলতি বছরের জুলাইয়ে ভেঙে যায়। এরপর থেকে দেশটিতে লড়াই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে হুথিরা পশ্চিম ইয়েমেনের কয়েকটি এলাকায় দ্রুত অগ্রসর হয়ে বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত দ্বীপ এবং বন্দরনগরী মোকার নিয়ন্ত্রণ নেয়।
এরপর থেকে সরকারি বাহিনী বেশিরভাগ যুদ্ধফ্রন্টের নিয়ন্ত্রণ স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে। লড়াই নতুন করে শুরু হওয়ার পর থেকে ইয়েমেনে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। ওই বছর হুথিরা রাজধানী সানা ও বেশ কয়েকটি প্রদেশ দখল করার পর থেকেই মূলত ইয়েমেন গভীর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এরপর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার রাজধানী ছেড়ে এডেনে সরে যেতে বাধ্য হয়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট।