বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন

রদ্রির শূন্যতা পূরণ করে ফেলেছেন ১৮ বছরের বুয়াদ্দি!

প্রতিনিধির নাম : / ২০ Time View
প্রকাশকাল : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সুপারস্টারনিউজ ক্রীড়া ডেস্ক : ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার বুয়াদ্দি ম্যানসিটির জার্সিতে নিজের জাত চিনিয়েছেন। জোড়া গোল করে পোর্তোর মাঠে ২-০ গোলের জয়ও এনে দিয়েছেন আর্লিং হালান্ড। কিন্তু ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রে ১৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদ্দি। যাকে এই গ্রীষ্মে দলে আনতে ৮৬ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছিল সিটি।

চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রথমবার একাদশে নেমেই বুয়াদ্দি বয়সের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত ফুটবল খেলেছেন। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ, পাসিং, বল পুনরুদ্ধার আর প্রতিপক্ষের চাপ সামলে নেওয়ার দক্ষতায় বুঝিয়ে দিয়েছেন, কেন তাকে দলে পেতে লিলকে ৮৬ মিলিয়ন পাউন্ড দিতে রাজি হয়েছিল সিটি।

প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অর্থে কেনা কিশোর ফুটবলার এখন বুয়াদ্দি। সিটির হয়ে এর আগে দুই ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। পোর্তোর বিপক্ষে পেলেন প্রথম একাদশে সুযোগ। সেই সুযোগে এমন পারফরম্যান্স করলেন, যেন ইউরোপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলছেন বহুদিন ধরেই।

ম্যাচে ৫৫টি পাসের মধ্যে ৫৪টিই সফল করেছেন বুয়াদ্দি। দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সর্বোচ্চ চারটি ড্রিবল করেছেন তিনি। সাতবার বল দখলে নিয়েছেন এবং ১৩টি ডুয়েলে অংশ নিয়েছেন।

‘বয়সে তরুণ, খেলায় পরিণত’
বুয়াদ্দির পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন সাবেক চেলসি উইঙ্গার প্যাট নেভিনও। ম্যাচ চলার সময় বিবিসি রেডিওতে তিনি বলেন, ‘তার বয়স আর খেলা মনে হচ্ছে, এই কাজের জন্যই যেন তার জন্ম হয়েছে। রদ্রিকে হারানোর ভয় সিটির সমর্থকদের ছিল। কিন্তু আমি বুয়াদ্দির দিক থেকে চোখ সরাতে পারছি না। এখন পর্যন্ত সে অসাধারণ।’

রদ্রির রিপ্লেসমেন্টে কি বুয়াদ্দি?
বুয়াদ্দির পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসছে রদ্রির প্রসঙ্গ। দীর্ঘদিন সিটির মাঝমাঠের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন স্প্যানিশ তারকা। তার বিদায়ের পর মাঝমাঠে বড় শূন্যতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। বুয়াদ্দি সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারবেন কি না, এখনই বলা কঠিন। তবে শুরুটা যে দুর্দান্ত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

১৮ বছর ৩৪১ দিন বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সিটির হয়ে একাদশে নামা বুয়াদ্দি, ক্লাবটির ইতিহাসে এই প্রতিযোগিতায় শুরুর একাদশে থাকা চতুর্থ সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়। অথচ মাঠে তার খেলায় বয়সের কোনো ছাপই দেখা যায়নি।

সিটির কোচ এনজো মারেসকার কাছেও বুয়াদ্দির সবচেয়ে বড় গুণ তার পরিণতিবোধ, ‘১৮ বছর বয়সেই সে অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। আজ রাতে সে খুব ভালো খেলেছে। সে ফরাসি, ইংরেজি ও স্প্যানিশ ভাষা খুব ভালো বলতে পারে। তার পরিণতিবোধ অন্যরকম।’

বড় মঞ্চে বুয়াদ্দির অভ্যস্ততা
বুয়াদ্দির জন্য অবশ্য বড় মঞ্চ একেবারে নতুন নয়। এবারের বিশ্বকাপে মরক্কোর হয়ে নজর কেড়েছেন তিনি। এর আগেও লিলের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে দারুণ এক জয়ে সমর্থকদের কাছ থেকে পেয়েছিলেন অভিবাদন।

ম্যাচে দুটি গোল করেছেন আর্লিং হালান্ড। বুয়াদ্দির পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হালান্ডও, ‘আমার মনে হয় আমরা এখানে এক দুর্দান্ত প্রতিভা পেয়েছি।”
সুপারস্টারনিউজ/এআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category