সুপারস্টারনিউজ ক্রীড়া ডেস্ক : বিপদের মুখে ম্যানচেস্টার সিটি। সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের প্রায় সমস্ত অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে এখনো ক্লাবের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এমনটাই জানা গেছে দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে।
এক সূত্রের বরাতে সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, প্রিমিয়ার লিগের আনা ১১৫ অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই দোষী সাব্যস্ত হয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। দীর্ঘ ৪ বছরের তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো গঠন করা হয়েছিল।
দ্য অ্যাথলেটিককে সিটির এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘প্রক্রিয়াটি এখনো চলমান এবং এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বাকি রয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয় হওয়ায় ক্লাবের অবস্থান ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির বিবৃতির সঙ্গে মিল রয়েছে। গত আট বছর ধরে ক্লাব এই প্রক্রিয়াকে পূর্ণ সম্মান জানিয়ে এসেছে। আশা করেছিলাম প্রিমিয়ার লিগ বোর্ড এবং কর্তৃপক্ষ একটি নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও পক্ষপাতহীন নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করবে।’
সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের। ২০১৮ সালের নভেম্বরে জার্মান সাময়িকী ‘ডার স্পিগেল’ সিটির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথি ফাঁস করলে এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।
প্রিমিয়ার লিগের পক্ষ থেকে সিটির বিরুদ্ধে সঠিক আর্থিক তথ্য না দেওয়া, খেলোয়াড় ও কোচদের বেতন-ভাতার পূর্ণ বিবরণ গোপন রাখা এবং উয়েফার ‘ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে’ ও লিগের নিজস্ব ‘প্রফিট্যাবিলিটি অ্যান্ড সাসটেইন্যাবিলিটি’ নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। অবশ্য শুরু থেকেই সিটি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
২০০৮ সালে আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপের মালিক শেখ মনসুর ক্লাবটি মালিকানা নেওয়ার পর থেকে ৮ টি প্রিমিয়ার লিগ, ৪টি এফএ কাপ, ৭টি লিগ কাপ এবং একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে।
যার মধ্যে ৬টি ট্রফিই জিতেছে ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর।
এর আগে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিটিকে ২ বছরের জন্য ইউরোপীয় টুর্নামেন্ট থেকে নিষিদ্ধ এবং ৩০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (উয়েফা)। ৫ মাস পরেই অবশ্য ক্রীড়া আদালতে তাদের নিষেধাজ্ঞা বাতিল হয়।
প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ট্রাইব্যুনাল বেশ কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। শাস্তির মাত্রা হতে পারে সাধারণ তিরস্কার ও জরিমানা থেকে শুরু করে পয়েন্ট কেটে নেওয়া, এমনকি প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কার বা ক্লাবটিকে সম্পূর্ণ বরখাস্ত করা।
পয়েন্ট কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে এ সময়ে জেতা ট্রফিও কেড়ে নেওয়া হতে পারে। তবে ক্রীড়া আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে জেতা ট্রফি কেড়ে নেওয়ার সম্ভাবনা কম, সামনের মৌসুমে পয়েন্ট কেটে নেওয়াই যুক্তিযুক্ত শাস্তি হতে পারে।
তবে চূড়ান্ত রায়ের পর সিটির সামনে সুযোগ থাকবে আপিল করার। ক্লাব সেই পথ বেছে নেবে বলে জানা গেছে।
সুপারস্টারনিউজ/এআর