সুপারস্টারনিউজ ক্রীড়া ডেস্ক : ঘরোয়া ফুটবলের যাত্রা ১৯৪৮ সালে। বসুন্ধরা কিংসের আবির্ভাব ২০১৮-১৯ মৌসুমে। আগমনটা নতুন হলেও ফুটবল আসরের অধিকাংশ রেকর্ডই কিংসের। পেশাদার আসরে ছয় লিগ শিরোপা তাদের ঘরে। দলটির যখন অভিষেক হয় তখনই ঢাকা আবাহনী পেশাদার লিগে ছয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। অথচ তারা এখন ছয়েই পড়ে আছে। দেশের ফুটবলে সবচেয়ে মর্যাদাকর আসরে টানা পাঁচবার ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়েছে কিংস। মাঝে শুধু মোহামেডান এক লিগ ট্রফি ঘরে তুলেছিল। তা না হলে অভিষেক আসর থেকে ডাবল হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতার রেকর্ডটি গড়ে ফেলত বসুন্ধরা কিংস।
কিংসের সামনে সুযোগ এসেছে সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। সবার ওপরে থাকতে পারলে বসুন্ধরা কিংসই সর্বোচ্চ সাতবার লিগের ট্রফি ঘরে তুলতে পারবে। যে মানের দল তাতে তাদের লিগ জয়ের সামর্থ্য ভালোভাবে রয়েছে। সবেমাত্র লিগ শুরু হয়েছে, তাই কারা চ্যাম্পিয়ন হবে বিষয়টি নিয়ে তর্কবিতর্ক করার সুযোগ এখনো আসেনি। ১৩ দলের দুই লেগ মিলিয়ে ২৪ ম্যাচ। তাই যেতে হবে বহু দূর।
পথ যতই বড় হোক না কেন, শুরুতে হোঁচট খেলে তা কঠিন হয়ে যেতে পারে। ছয়বারের চ্যাম্পিয়নদের শুরুটা হয়েছে মূল্যবান দুই পয়েন্ট হারিয়ে। জেতা ম্যাচ অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল আরামবাগের সঙ্গে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে। পরের ম্যাচে কিংস আবার কিং রূপেই খেলেছে। এবিজি স্পোর্টস সিটিতে অবস্থিত কিংসের হোম ভেন্যু বসন্ধুরা কিংস অ্যারিনায় ওয়ান্ডারার্সকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে।
আগের ম্যাচে গোল উৎসবে মাতলেও আজকের ম্যাচকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। এবারের লিগে নতুন দুটি দলের অভিষেক হয়েছে। একটি মিরপুরের সিটি ক্লাব, আরেকটি চট্টগ্রাম সিটি এফসি। সত্যি বলতে কী, যে মানের দল তাতে ঢাকার সিটি ক্লাবের শিরোপা লড়াইয়ে থাকার কথা নয়। কিন্তু পেশাদার লিগে নতুন হলেও তারা শুরু থেকে চোখে ধরার মতো নৈপুণ্য দেখাচ্ছে, যা বড় বা শক্তিশালী দলের জন্য সতর্কবার্তা। নবাগত সিটির শুরুটা হয়েছিল ব্রাদার্স ইউনিয়কে হারিয়ে। পরের ম্যাচেও জিততে জিততে ৩-৩-এ ড্র করেছে শক্তিশালী ফর্টিসের বিপক্ষে। পুলিশ তিন ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকলেও ফর্টিসের সঙ্গে যুগ্মভাবে দুইয়ে ঢাকা সিটি।
কিংসের সামনে যতই কঠিন প্রতিপক্ষ হোক, যদি তারা চেনা রূপে খেলতে পারে পুরো তিন পয়েন্টই পাবে। ফেডারেশনকাপ ও লিগ মিলিয়ে তারা এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচ খেলছে। এখনো কিন্তু পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে পারেনি। নতুন ব্রাজিলিয়ান কেইকে জেসুস অসুস্থ থাকায় অভিষেকই হয়নি। আবাহনী থেকে নাইজেরিয়ান এমাকাও মাঠে নামেননি। এরা যদি আজ রবসন রবিনহো ও তিন নেপালির সঙ্গী হয় তাহলে সিটি কতটুকু সুবিধা করতে পারবে সেটাই দেখার বিষয়। গাজীপুর শহীদ বরকত স্টেডিয়াম মাঠটি তেমন সুবিধার নয়। জিততে হলে দ্রুতই গোল পেতে হবে। রবসনের ছন্দ তো আছেই, তিন বিদেশি থাকলে জয়টা না সহজ হয়, তা কে জানে?
সুপারস্টারনিউজ/এআর